মৌলভীবাজার সদরে ১২ চেয়ারম্যান ও ১১২ মেম্বার পদে জয় চায় বিএনপি
প্রকাশিত হয়েছে : 23 October 2026, 2:26 pm

ছবি: পূর্বদিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের ১২টি ও সাধারণ সদস্যের ১১২টি পদে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দলীয় নেতারা। একই সঙ্গে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আগামী রবিবারের মধ্যে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের বেঙ্গল কমিউনিটি সেন্টারে সদর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নেতারা।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম. নাসের রহমান বলেন, দল যাঁকে সমর্থন দেবে, তাঁর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংসদের ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এম. নাসের রহমানকে সদর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
নাসের রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান। এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা সমাধান ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে।
বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তখনই জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক অগ্রগতিকে দলটি সব সময় গুরুত্ব দিয়েছে।
বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে নাসের রহমান বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল যাতে সাধারণ মানুষ পায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সদর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। পারস্পরিক ঐক্য, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন এবং এলাকার মানুষের পাশে থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাসের রহমান বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে তাঁর সাড়ে ২২ বছরের দায়িত্ব পালনের মধ্যে প্রায় ১৮ বছর দলকে বিরোধী দলে থেকে কাজ করতে হয়েছে। ওই সময়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ আয়োজন করতে নানা বাধার মুখে পড়তে হতো। শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান করতে গেলে পুলিশ বাধা দিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি ১১২টি সাধারণ সদস্য পদেও দলের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চান তাঁরা।
তিনি বলেন, “এবার চাই, সদরে ১২টা চেয়ারম্যানই বিজয়ী হতে এবং ১২টি ইউনিয়নে ১১২ জন মেম্বার আমাদের দলের নির্বাচিত হয়ে আসতে। আমরা যেন এবারকার এ সুযোগটাকে অবহেলা না করি, কাজে লাগাতে পারি।”
ময়ূন বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন। নেতাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে।
দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এতে দলের ক্ষতি হয়নি; বরং নেতাকর্মীরা একে অন্যের কাছে গেছেন এবং নিজেদের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ময়ূন বলেন, নির্বাচনে শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেলেই হবে না, সাধারণ ভোটারদের কাছেও যেতে হবে। মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারলে ভোটাররা বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে রায় দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় জানানো হয়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পেতে আগ্রহী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আগামী রবিবারের মধ্যে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির কাছে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে। দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিভি জমা দেওয়ার বিষয়টি নেতাকর্মীদের অবহিত করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন এম. নাসের রহমানের সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজিনা নাসের। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসের রহমানের বিজয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিগত সংসদ নির্বাচনে আমাদের যে বিশাল বিজয়, সেটা শুধু আমাদের না, আপনাদের সবার কৃতিত্ব। আপনারা সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন বলেই আমরা আজ এই বিশাল বিজয় আনতে পেরেছি।”
নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটি ভবিষ্যতে মৌলভীবাজারের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমানের মাধ্যমে এলাকায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে দুই থেকে চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক মনিটরিং টিম গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।
রিপন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ইউনিয়নভিত্তিকভাবে কারা পাচ্ছেন, তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি বলেন, “দলের নেতৃবৃন্দের সফলতাই আমাদের দলের সফলতা।”
সভায় দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি কর্মসূচির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমেদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও নাসের রহমানের রাজনৈতিক সচিব-১ আলহাজ মো. আব্দুল মুকিত, রাজনৈতিক সচিব-২ মো. ফখরুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হেলু মিয়াসহ অন্য নেতারা।
এ সময় সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. বদরুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. ফয়সল আহমদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসী মিছবাউর রহমানসহ নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক সমন্বয়, জনসম্পৃক্ততা ও তৃণমূলের সক্রিয়তা বাড়িয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানান নেতারা।





