অপহরণের ১দিন পর রত্না চা বাগান থেকে মণিকা রাণী দাসের মৃতদেহ উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ২:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত ২৭ এপ্রিল রত্না চা বাগানের ম্যানেজার নির্মলেন্দু দাসের মেয়ে মণিকা রাণী দাস (১৮) নিজ বাড়ি হইতে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজির পর বাগানের ম্যানেজার তার মেয়ের নিখোঁজের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন যার নং- ১৬৭২/২০২৪ তারিখ ২৭/০৪/২০২৪ উক্ত ডায়েরীর পরিপ্রেক্ষীতে জুড়ী থানার পুলিশ মেয়েটিকে খোঁজতে থাকে এবং তাদের সাথে কারো পূর্ব শত্রুতা ছিল কি না তা তদন্ত করে। জুড়ী থানার পুলিশের দূরদর্শীতায় ২৮ এপ্রিল রত্না চা বাগানের গহীন জঙ্গলে মণিকা রাণী দাসের মৃতদেহ খোঁজে পায়। মৃতদেহটি উদ্ধার করে বাগানের ম্যানেজার নির্মলেন্দু দাসকে খবর দিলে তিনি থানায় এসে তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাগরনাল ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের শরীফুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ তার মেয়েকে কেন্দ্র করে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। যা লোকমুখে এলাকার কারো অজানা নেই। সেইদিন রাতে রত্না চা বাগানের ম্যানেজার নির্মলেন্দু দাস বাদী হয়ে শরীফুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে তার পিতা ও তাদের দোকানের কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেন যার জুড়ী থানার মামলা নং ৩৭, জি.আর মামলা নং- ১৫৫/২৪। বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষীতে জুড়ী থানার পুলিশ সেইদিন রাতেই শরীফুল ইসলামের পিতা আব্দুর রকিব এবং দোকানের কর্মচারী সুলেমান মিয়াকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চালান প্রতিবেদন মূলে তাদেরকে মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়। বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১নং আসামী শরীফুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ তার মেয়ে মণিকা রাণী দাসকে প্রেমের প্রস্তাবে উত্যক্ত করে আসছে। তাদের পারিবারিক ক্ষতি সাধনের জন্য উপরোক্ত আসামীগণ যোগসাজসে তার মেয়েকে অপহরণপূর্বক গলা টিপে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রত্না চা বাগানের গহীন জঙ্গলে ফেলে রেখেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের নিকট থেকে জানা যায়, রত্না চা বাগানের ম্যানেজার নির্মলেন্দু দাসের মেয়ে মণিকা রাণী দাসের সাথে আলীপুর গ্রামের আব্দুর রকিবের ছেলে শরীফুল ইসলামের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একসময় তারা পালিয়ে বিয়ে করলেও, বাগানের ম্যানেজার নির্মলেন্দু দাস ও তার পরিবার উক্ত বিবাহ মেনে নেয়নি। নির্মলেন্দু দাস তার মেয়েকে জোরপূর্বকভাবে নিজ হেফাজতে রাখিয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। তাদের নির্যাতনের ভয়ে মণিকা রাণী দাস একসময় নিজে আত্মহত্যা করে। সেই আত্মহত্যার দায় শরীফুল ও তার পরিবারের উপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নির্মলেন্দু দাস নিজে তার মেয়ের মৃতদেহ রত্না চা বাগানে ফেলে তথ্য গোপন করে পুলিশের মাধ্যমে ইহা সাজিয়েছেন। উক্ত হত্যার বিষয়ে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রত্না চা বাগান এলাকা হতে একটি মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গিয়াছে এবং বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২জন আসামীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






