পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ অপসারণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন হাজি মুজিব
হাওরে যাচ্ছে শতশত টন পলিথিন, তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিলেন এমপি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ
নির্বাচনে বিজয়ের পর একের পর এক ব্যতিক্রমী কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন মৌলভীবাজার-৪ আাসনের সংসদ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও দানবীর মো: হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী অরফে হাজী মুজিব।
এরই ধারাবাহিকতায় তিনি শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পলিথিন বর্জ ব্যবহার রোধকল্পে কার্যক্রম হাতে নিয়ে রাস্তাঘাট, পাহাড়ী ছড়া ও কৃষি জমি থেকে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ অপসারণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।
শ্রীমঙ্গল ভুরভুরিয়া ছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া দিয়ে প্রতিদিন টন টন ময়লা পলিথিন প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ হাওরে যাচ্ছে। বিষয়টি লক্ষ করে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি মো: মুজিবুর রহমান।
তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেন।যা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসলাম উদ্দিন, সহকারী কমিশিনার ভূমি মহিবুল্লাহ আকন, শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, যুবদলের আহবায়ক মহিউদ্দিন ঝারু ও বিএনপি নেতা মশিউর রহমান রিপন, ম্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এ হামিদসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কর্মকর্তা বৃন্দ, স্কাউট, বিএনসিসির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও সূধীজনেরা। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে শহরতলীর পরিবার গুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ জমানো জন্য বার বার ব্যবহার যোগ্য পলিথিন উপহার দেন। একই সাথে পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ ব্যবহার কমাতে ও সচেতন হতে লিফলেট বিতরণ করেন। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন টেক হোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত বর্জ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কিমিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, আপনারা দেখছেন আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহনের পর থেকে দেশের কাজে নিজেকে কিভাবে নিয়োজিত করেছেন। তার দিক নির্দেশনা ও অনুপেরণায় আমরাও উৎসাহিত হয়ে মাঠে আছি। আগামী ৫ বছর অন্তত আপনারা আমাকে মাঠে পাবেন। আমার অতিত ইতিহাসও আপনাদের জানা আছে। আমি কোন প্রকার জনপ্রতিনিধি না হয়েও আমি বিগত ২০০০ সাল থেকে এই দুই উপজেলার মানুষের পাশে আছি। আমি চেষ্টা করেছে আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু কাজ করার। আমি প্রতিষ্ঠা করেছি একটি মহা বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি দাতব্য চিকিৎসালয়, অংখ মসজিদ মন্দিরে আমি সহায়তা করেছি। আল্লাহর মেহের বাণীতে আমার এ জাতীয় কাজ জনগণের জন্য অভ্যাহত থাকবে।
আজকে আমি যে কাজের উদ্বোধন করছি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন কাজ। তবে আমি বিশ্বাস করি এটি যতোবড় কঠিন কাজই হোক না কেন আমরা সবাই যদি তা আন্তরিকভাবে পালন করি তা হলে আমরা লক্ষে পৌছাতে পারবো।
আপনারা জানেন, আমার নির্বাচনি এলাকা একটি পর্যটন এলাকা। তাই আমাদের এলাকাকে সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এই জন্য সবার আগে আমাদের প্রয়োজন সচেতন হওয়া। আমরা সবাই মিলে যদি একটু সচেতন হই তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর ও গোছানো নগরী আমরা উপহার দিতে পারবো।
এ লক্ষে আমরা আজ শুক্রবার থেকে আমাদের ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করছি। আজ আমরা যে ছড়ার পাড়ে দাড়িয়ে আছি এটি ভুরবুড়িয়া ছড়া। বুরো খেতে পানি নেয়ার জন্য এই ছড়ার একটা অংশে বাঁধ দেয়া হয়। আপনারা দেখতে পারছেন এই বাঁধের পাশে কি পরিমান প্লাস্টিক ও অপছনশীল বর্জ জমেছে। এই বর্জ গুলো প্রতিদিন হাইল হাওরে যাচ্ছে। এতে রেড এলার্ডের দিকে এগুচ্ছে হাইল হাওর। ইতি মধ্যে এর ভিতরে অধিকাংশ খাল ও বিল ভরাট হয়েগেছে। উর্বরতা হারিয়েছে আমাদের বুরো ফসলের মাঠ। ব্যহত হচ্ছে উৎপাদন। ঝুঁকিতে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। এটি এখনই বন্ধ করতে পারলে হাওরের অবশিষ্ট অংশগুলো হয়তো আরো কিছুদিন আমরা রক্ষা করতে পারবো। তাই আমরা শ্রীমঙ্গলবাসীর প্রতি, বিশেষ করে পাহাড়ী ছড়ার পাড়ে যাদের বসতি আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ আপনারা কোন বর্জ ছড়ায় বা ড্রেনে ফেলবেন না। আপনারা প্লাস্টিক বর্জ গুলো এক জায়গায় জমিয়ে রাখুন, পরে তা বিক্রিও করতে পারবেন।আর বিক্রি করতে না পারলে পৌরসভার ময়লার গাড়িতে তা আলাধা করে দিয়েদিন। আজকে আমি আপনাদের আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে বার বার ব্যবহারযোগ্য একটি করে পলিথিন দিচ্ছি আপনারা এতে পলিথিন গুলো জমাবেন। যাদের ঘরে তা পৌছাতে পারবো না। আপনার ১০ টাকা দামের একটি প্লাস্টিকের বস্থায় তা জমাবেন।
মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো: মোবারক হাসান লোপ্পা বলেন, নির্বাচনের এক দিন পর তিনি বেড়িয়ে পড়েন যে মানুষ তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে তাদের সাথে দেখা করতে। কেউ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিলে তিনি সে ফুল তাদেরকেই আবার উপহার দেন। কারণ তাদের কারনেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন তাই এই ফুল পাওয়ার অধিকার তাদেরই। এর পর ঢাকা থেকে শপথ নিয়ে যথন এলাকায় ফিরেন প্রথমেই শ্রীমঙ্গলের প্রবেশদ্বার শ্রীমঙ্গল চা কন্যা এলাকায় দূর্ঘটনা রোধে ঢাকা মৌলভীবাজার মহা-সড়কটি চা কন্যার অপর পাশে প্রসস্ত করার নির্দেশদেন। এর পর তাকে গাড়ি বহরে করে চা কন্যা থেকে শ্রীমঙ্গল নিয়ে আসার সময় গাড়ি বহর থামিয়ে তিনি চলে যান শ্রীমঙ্গল সাতগাও চা বাগানের লেবার লাইনে সেখানে দেখা করেন চা শ্রমিকদের সাথে। কথা দেন তাদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি কাজ করবেন। এর পর শ্রীমঙ্গল চৌমুহনীতে তার পথ সভার মাধ্যমে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মূলক সভা করার কথা ছিল কিন্তু তিনি শহরে যানজট লেগে যাবে দেখে তাৎক্ষনিক পথসভা বাতিল করে নেতাকর্মীকৈ দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। এর পর কমলগঞ্জে তার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু তিনি বাড়ি না গিয়ে প্রথমেই গেলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সাথে দেখা করেন। তাদের খোঁজ খবর নেন। এ সময় সকল রোগীদের তরল দুধ উপহার দেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে হাসপাতালের সমস্যা গুলো জানেন। তিনি ওই সময়ই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তীতে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কশন করেন। একই ভাবে তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও যান। সেখানেও অনুরোপভাবে রোগীর খোজখবর নেন এবং তরল দুধ উপহার দেন।
পূর্বদিক/ ডেস্ক/ টিকে





