জিপিএ-৫ না পাওয়ার আক্ষেপ, পেছনে ফেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কাব্য
প্রকাশিত হয়েছে : ১ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ

বিশ্বপ্রিয় ভট্টাচার্য কাব্য। ছবি: পূর্বদিক
সিনিয়র রিপোর্টার: শিক্ষাজীবনে ‘জিপিএ-৫’কে অনেকেই সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে দেখেন। তবে বাস্তবতা হলো, কেবল জিপিএ-৫ থাকলেই জাতীয় পর্যায়ের ভর্তি যুদ্ধে টিকে থাকা নিশ্চিত হয় না। মেধা, আগ্রহ এবং অধ্যবসায়ের সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের পথ তৈরি করে, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ বিশ্বপ্রিয় ভট্টাচার্য কাব্য।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের এই শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ভর্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে দুটি বিভাগে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২৫ মার্চ প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, কাব্য থিয়েটার বিভাগে দ্বিতীয় এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে উনিশতম স্থান অর্জন করে।
পরবর্তীতে ২৯ মার্চ তিনি ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে ভর্তি সম্পন্ন করেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাব্য জানায়, সে সবসময় নিজের আগ্রহ ও প্যাশনকে অনুসরণ করতে চেয়েছে। পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় সে আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে নিজেকে আরও বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
কাব্য বলেন, “এইচএসসিতে অল্পের জন্য জিপিএ-৫ না পাওয়ায় প্রথমে হতাশ হয়েছিলাম। তবে ভেঙে না পড়ে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হই। নানা ব্যর্থতার পর আজকের এই সাফল্য এসেছে। জিপিএ-৫ না পেয়েও পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
শিক্ষাজীবনে কাব্যের ধারাবাহিক সাফল্য রয়েছে। ২০২৩ সালে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করে এবং ২০২৫ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে ৪.৫৮ অর্জন করে। পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তি, ফটোগ্রাফি ও দাবায় বিভিন্ন পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে তার সৃজনশীল প্রতিভারও পরিচয় মিলেছে।
শ্রীমঙ্গল শহরের মাস্টারপাড়া আবাসিক এলাকার ‘বিজয় কুটির’-এ বসবাসরত কাব্য একটি শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছে। তার দাদা ছিলেন ন্যাশনাল টি কোম্পানির প্রাক্তন চা বাগান ব্যবস্থাপক বিজয় কান্তি ভট্টাচার্য পুষ্প। বাবা বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন একজন সাংবাদিক ও আবৃত্তিচর্চার সংগঠক এবং মা তনুশ্রী গোস্বামী। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের অনুপ্রেরণাই তাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
কাব্য তার ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছে।
পূর্বদিক/এসএ





