জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস, রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ভাবনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত
পূর্বদিক ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালু করা এবং দোকানপাট ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এরপর জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিংমল সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। তবে নতুন পরিস্থিতিতে সরকার আবারও আগের সময়সূচিতে ফিরে যেতে পারে। এমনকি জ্বালানি সংকট আরও বাড়লে বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টায় নামিয়ে আনার কথাও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। তবে আপাতত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, স্কুল-কলেজে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা সশরীরেই নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপু বলেন, দোকান খোলা ও বন্ধের সময় নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তিনি জানান, অফিস ছুটি বিকেল ৫টায় হওয়ায় অনেক ক্রেতা সন্ধ্যার পর বাজারে আসেন, তাই রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত এক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ৪০ শতাংশ আলোকসজ্জা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন, শর্ত ছিল নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানসহ বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আংশিক অনলাইন শিক্ষা ও সময়সীমা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, অনলাইন শিক্ষা কখনোই শ্রেণিকক্ষের পূর্ণ বিকল্প নয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সীমিত আকারে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
পূর্বদিক/এসএ




