দেড় মাস পর বাজার থেকে ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক: রিজার্ভ আবার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত
পূর্বদিক ডেস্ক: দেড় মাস বিরতির পর আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৭ কোটি ডলার ক্রয় করেছে। এর আগে সর্বশেষ ২ মার্চ ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে আড়াই কোটি ডলার কেনা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ৫৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী আবারও ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের দরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ডলারের দরে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়।
মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে এবং মাসের মাঝামাঝি তা ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় পৌঁছায়। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল ৭ কোটি ডলার কেনার বিপরীতে বাজারে ৮৫৯ কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। এর আগে ২ মার্চ পর্যন্ত ৫৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কেনার বিপরীতে ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজারে ছাড়া হয়। এতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বেড়েছে।
এদিকে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে গতকাল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৮৪ থেকে ১২২ টাকা ৮৮ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। ১২ এপ্রিল এই দর ছিল ১২২ টাকা ৯১ থেকে ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই ডলারের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আমদানি বৃদ্ধি ও রপ্তানি হ্রাসের কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয় প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলায় বাজারে চাপও কিছুটা কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১৬১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।
২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ডলারের দর ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। তবে করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তা বেড়ে ১২২ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- বর্তমান গ্রস রিজার্ভ: ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার, বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ: ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
গত মাসে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দায় বাবদ প্রায় ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তখন বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
দেড় মাস পর ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এবং রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্বদিক/এসএ





