দখলদারদের কবলে পড়ে-
কুলাউড়ার পৃথিমপাশার থামা গাং আজ বিলীনের পথে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ
কুলাউড়া প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের সীমানা দিয়ে বয়ে চলা এক সময়ের স্রোতাস্রীনি থামেস্বরী ছড়া (থামা গাং) দখরদারদের কবলে পড়ে সেটি আজ বিলীন হতে চলেছে এই ছড়াটি। খরস্রোতা মনু নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া উল্লেখিত দুই ইউনিয়নের কৃষকেরা
কৃষি কাজে ব্যবহার করতেন ওই ছড়ার পানি। দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম ছিল এটি। তাছাড় ছড়ার উভয় পাড়ে জেগে ওঠা ঘাস, দল, কলমি লতা, কেওয়া পাতা ছিল
অন্যতম গো-খাদ্য। পেশাদার জেলেরা এক সময় এই ছড়া থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। উক্ত ছড়া থেকে শিকারকৃত মাছ স্থানীয় রবিরবাজারে বিক্রি করতেন বলে জনত্রুতি রয়েছে।
সরেজমিন ২১ ফেব্রুয়ারী শনিবার গিয়ে দেখা যায়, থামেস্বরী ছড়া (থামা গাং) এর বর্তমানে কোন অস্বিত্ত্ব নেই। দুই পাড়ের ভূমির মালিকরা একেবারেই দখল করে নিয়েছেন ছড়াটি। যার ফলে জল শূন্যতায় ভোগছেন স্থানীয় ইটাহরি বন ও ছাগলিকোনা হাওরের কৃষকরা। এই ছড়ার পানি দিয়ে আউশ, আমন ও বোরো ধান চাষ করতেন কৃষকরা। বিশেষ করে স্থানীয় রবিরবাজারের পশ্চিমে অবস্থিত ছাগলিকোনা হাওরের বিশাল আবাদী জমি বোরো মৌসুমে পানির অভাবে ধান চাষ করতে পারেন না কৃষকরা। এই ছড়ায় পানি থাকলে কৃষকরা তিন ফসলী ধান চাষ করতে পারতেন।থামেশ্বরী এই ছড়া নিয়েও এর পূর্বে ২০২৪ সালে বিভিন্ন গন মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল কিন্তু এখন পর্যন্ত এই চড়ার কোন উন্নয়ন মূলক কাজ হয় নাই।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মনাফ (৭০), বদর উদ্দিন (৬০), আব্দুর রাজ্জাক (৬৫), ফজলু মিয়া (৫৫), অদিত্য চন্দ্র দেব (৬১), সজল দেব (৫৫), রশিদ আলী (৪৫), আব্দুলহান্নান (৪২), অপু দেব (৪০) নজরুল ইসলাম( ৩২)এর সাথে আলাপকালে তারা আক্ষেপ করে বলেন, এই ছড়ায় আমাদের বাপ-দাদারা জাল ফেলে মাছ শিকার করতেন একসময়। তাছাড়া আমাদের গৃহপালিত গরু, মহিষকে গোসল করাতাম এই ছড়ার পানি দিয়ে। এই ছড়ার পানি দিয়ে আমরা আমাদের কৃষি কাজ করতাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ছড়াটি আজ বিলীন হয়ে গেছে। তাই সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর
দাবি ছড়াটি উদ্ধার করে খননের মাধ্যমে পূর্বের ন্যায় পানির প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া ও দখলমুক্ত করে দেওয়া।
স্থানীয়রা আরও বলেন যে, এই খরস্রোতা ছড়াটি খনন করে ছড়ার দুই পাশে বৃক্ষরোপন করলে পরিবেশ অনেক সুন্দর ও উপলব্ধি হবে।ছড়াটি একটি দৃষ্টান্ত পর্যটন স্থান হিসাবে রুপান্তরিত হবে আমরা আশা করছি।
এ বিষয়ে পৃথিম পাশা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন,এই ছড়া টি খনন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই ছড়া বিষয়ে আমাদের উপজেলার কর্মকর্তাদের উপস্থাপনা করবো এবং আমরা সরজমিনে গিয়ে সরকারি সার্ভায়ার দিয়ে ছড়াটি নির্ণয় করবো।
কৃষি নিয়ে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (কৃষি বিভাগ) মোহাম্মদ হেলাল খান বলেন,পৃথিবীর অর্থনিতীর সব ছেয়ে বড় ক্ষেত্র হচ্ছে কৃষি। কৃষির মান উন্নয়ন এর জন্য পানির প্রয়োজন তাই এই থামেশ্বরী ছড়াটি দ্রুত খনন করে কৃষকের মুখে হাসি ফোটান।সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথম খাল খনন প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিলেন যার মাধ্যমে এদেশের বিশাল জনগোষ্টির খাদ্য চাহিদা পূর্নতায় খাদ্যের সয়ংসম্পূর্ণ করা এবং উদ্বৃও দেশের বাহিরে রপ্তানি করে দেশের মানুষের অর্থনিতিক খাদ্যের চাহিদা বাড়া ও লাভবান করা।তাই কৃষকের কথা চিন্তা করে এই ছড়াটি উদ্ধার করে খনন করে কৃষকদের কে বেশি করে কৃষি কাজ করার সুযোগ দিন।
থামেশ্বরী ছড়া নিয়ে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস বিভাগ) মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন,নদীপ্রাণ এ বাংলাদেশ নদীতেই বেঁচে থাকে। কিন্তু শতশত নদী কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের অবহেলার কারনে। আমরা জানি সুলতানি আমল ও মুঘল আমলে এধরনের নদীকে সেচের জন্য রুপার পাত দিয়ে বৈজ্ঞানিক ভাবে ব্যবহার করা হত। মনু নদী থেকে উৎপন্ন থামা নদী ফানাই নদীতে মিশেছে কিন্তু দখলদার ও খনন না করার কারনে এ নদীটি হারিয়ে গেছে এ অঞ্চল থেকে। খুব দ্রুততার সাথে এ নদীটিকে উদ্ধার করে কৃষি কাজের জন্য ভূউপরিস্থ পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বর্তমান সরকার যুগান্তকারী খালকাটা কর্মসূচী হাতে নিচ্ছে। এটিকেও আমরা সাধুবাদ জানাই।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনিসুল ইসলাম বলেন, থামেস্বরী ছড়ার এ বিষয় নিয়ে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





