শিশু রামিসাসহ দেশব্যাপী ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে সমাবেশ ও ঘৃণা প্রদর্শন কর্মসূচি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মে ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে শিশু রামিসাসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সমাবেশ, প্রতীকী ধর্ষকের প্রতিকৃতিতে জুতা ও থুথু নিক্ষেপ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও মানবিক সংগঠন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস) মৌলভীবাজারের উদ্যোগে এবং সংগঠনের আন্তর্জাতিক শাখা বিআইএস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় শনিবার (২৪ মে) সকাল ১১টায় শহরের চৌমুহনা চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিআইএস’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জেলার বিশিষ্ট সংগঠক এম মুহিবুর রহমান মুহিব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আবু সামাদ সুজেল।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার টাউন দেওয়ানি মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা সৈয়দ মুহিত উদ্দিন, লেখক ও গবেষক অ্যাডভোকেট মো. আবু তাহের, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খালেদ চৌধুরী, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদ মম, কবি সুফি চৌধুরী, কবি আবদাল মাহবুব কোরেশী, হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী, সাংবাদিক মাহবুবর রহমান রাহেল, জুসেফ আলী চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম তরফদার, শরীফ ইসলাম ও আব্দুস সালাম তালুকদার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী আব্দুর রহমান পারভেজ, আকতার আহমদ, কাজী সোহেল আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম রুবেল, রেজাউল করিম রাফি, ফাইয়ান আহমদ, আবুল খয়ের, মো. মনির উদ্দিন, মাহবুবর রহমান ইয়ামিম, রেদওয়ান আহমদ ছামি, রাফিদ আহমদ রাফি, কামরুজ্জামান লাদেন, সৃজন দাশ, শাহান আহমদ, জুয়েল আহমদ, হৃদয় আহমদ ও হোসাইন আহমদ রাব্বিসহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা দেশে নারী ও শিশুর প্রতি বাড়তে থাকা সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানান। তারা এসব ঘটনাকে ‘জাতীয় জরুরি ইস্যু’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখারও দাবি জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে এম মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, বাস্তবে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
পূর্বদিক/এসএ






