ভর্তুকি কমিয়ে রপ্তানি-রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ জুন ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

এআই দিয়ে তৈরি ছবি।
পূর্বদিক ডেস্ক: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ কমানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেটে ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ কমে প্রায় ৮৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকায় নামতে পারে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৯৫ হাজার ৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী বাজেটে ভর্তুকি ব্যয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই অর্থবছরে ভর্তুকি বাবদ সরকারের ব্যয় ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ গত বছরের প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা কম।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়েই ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রশমিত হলে জ্বালানি ও সারের দাম কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম পর্যায়ক্রমে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর কৌশলও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
নীতিগতভাবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও খাদ্য খাতে দেওয়া সরকারি সহায়তাকে বাজেটে ভর্তুকি হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে কৃষিখাতে দেওয়া অনেক সহায়তা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দেখানো হয়। একইভাবে খাদ্য ভর্তুকির কিছু অংশও ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের মধ্যে বিভক্ত থাকে। ফলে এ দুই খাতের ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণে কিছু জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, ভর্তুকি ব্যয় কমানো হলেও রপ্তানি ও প্রবাসী আয় উৎসাহিত করতে প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রণোদনা, পাট খাতের প্রণোদনা এবং রেমিট্যান্স প্রণোদনা মিলিয়ে মোট ১৬ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তুকি কমিয়ে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ একদিকে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুই উৎসকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
পূর্বদিক/এসএ





