সাম্য, মানবতা ও সম্প্রীতির কবি নজরুল আজও জাতির পথপ্রদর্শক: নাসের রহমান
প্রকাশিত হয়েছে : ৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ

এমপি নাসের রহমান
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাম্য, মানবিকতা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় নজরুলের দর্শন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
রোববার বিকেলে মৌলভীবাজার পৌর মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২০২৭)’-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম নাসের রহমান বলেন, “নজরুলের চেতনার কোনো মৃত্যু নেই। অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তাঁর দর্শনের বিকল্প নেই। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি সাম্য, দ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও সম্প্রীতির অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নজরুলের রচনা শুধু সাহিত্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, মানবমুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্যও চিরকাল প্রাসঙ্গিক। তরুণ প্রজন্মকে তাঁর আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করতে ‘নজরুল বর্ষ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাই পারে একটি সহনশীল, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তুলতে।”
বক্তব্যে জাতীয় কবির জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৯৭৬ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কবিকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে আসার কিছুদিন পরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নজরুলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ ছিল।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২৭)’ উপলক্ষে বছরব্যাপী আলোচনা সভা, সাহিত্য পাঠ, নজরুলসংগীত, কর্মশালা, আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কবির দেশাত্মবোধ, সাম্য, প্রেম ও মানবতার বাণীতে সমৃদ্ধ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নজরুলচর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহেরই প্রতিফলন ঘটায়।
বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম কেবল একটি সময়ের নয়, সব সময়ের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শনের চর্চা যত বিস্তৃত হবে, ততই সমাজে অসাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে। এ লক্ষ্যেই ‘নজরুল বর্ষ (২০২৬-২৭)’ উদযাপনকে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
পূর্বদিক/এসএ





