সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে ৪৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের পাশে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর আয়োজনে শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টায় ইচ্ছারচর বাজার এতিমখানা সংলগ্ন সাচনা রোডে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা গাছ কাটার কার্যক্রম বন্ধ, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের ন্যায্য লভ্যাংশ প্রদান এবং গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের সহসভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এমডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হাসান, স্থানীয় সামাজিক বনায়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পরিবেশ সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে বর্তমানে সম্প্রসারণ বা উন্নয়নমূলক কোনো কাজ নেই। অথচ বন বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলেছে। সওজের বক্তব্যের সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকাণ্ডের এই বৈপরীত্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, উন্নয়নমূলক প্রয়োজন ছাড়াই একটি অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থে গণহারে গাছ কাটছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগ সুনামগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সড়কে লাগানো গাছগুলোর বয়স ২৪-২৫ বছর হয়েছে। অনেক গাছ মারা গেছে বা নষ্ট হয়েছে। সাধারণত ১০-১১ বছর পরপর গাছ কেটে নতুন করে গাছ লাগানোর নিয়ম রয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় অংশীজনেরাও গাছ কাটার জন্য তাগাদা দিচ্ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে গাছগুলো নম্বরিং করে বিক্রি করা হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে তখন গাছ কাটা সম্ভব হয়নি, এখন সেগুলো কাটা হচ্ছে।
নতুন করে গাছ লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১০ শতাংশ নতুন গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দ থাকে। ওই অর্থ দিয়েই নতুন গাছ লাগানো হবে, সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না। তবে কবে ও কখন নতুন গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
সমাবেশ থেকে আয়োজকেরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের যথাযথ লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেওয়া, গাছ কাটার নেপথ্যে বন বিভাগ, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষনিধনের সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া ইতোমধ্যে কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই সড়কের পাশে দ্বিগুণ হারে নতুন সামাজিক বনায়ন করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ করা না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
পূর্বদিক/এসএ





