পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশের চারা রোপণ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পর্যটন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশ ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার-এর উদ্যোগে সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের কমলগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন রুট। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা-বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কের দুই পাশে দেশীয় ও দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ ও তরুণ উদ্যোক্তা মুঈদ আশিক চিশতি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার-এর মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি আহমেদুজ্জামান আলম, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও সংগঠনের সহ-সভাপতি রুবেল আহমদ, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, পলাশ (Butea monosperma) বাংলাদেশের একটি দেশীয় বৃক্ষ। উজ্জ্বল লাল-কমলা রঙের ফুলের জন্য এটি ‘বসন্তের অগ্নিশিখা’ নামে পরিচিত। বসন্তকালে ফোটা এ ফুল মৌমাছি, প্রজাপতি এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে আকৃষ্ট করে, যা পরাগায়ন বৃদ্ধি এবং উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বংশবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি দেশীয় বৃক্ষরোপণ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক অবদান রাখে।
বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু সবুজায়নের কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার সামাজিক দায়িত্ব। পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশীয় বৃক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটনের নান্দনিকতা ও আকর্ষণও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
পূর্বদিক/এসএ





