শ্রীমঙ্গলে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ স্মরণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুন ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলমনি ও ঝানুর আত্মত্যাগের স্মরণে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলোচনা সভা, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে শহরের ভানুগাছ রোডস্থ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে অনুষ্ঠানস্থলের সামনে স্থাপিত বিদ্রোহী নেতা সিধু ও কানুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এরপর সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সুজিত সাঁওতালের সভাপতিত্বে এবং দুলাল সাঁওতাল ও স্বপন সাঁওতালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বনিক, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক আদিবাসী ফ্রন্টের সভাপতি পরিমল সিং বাড়াইক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বঙ্গকবি লুৎফুর রহমান এবং হাজী আব্দুল গফুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক প্রদীপ সাঁওতাল।
বক্তারা সাঁওতাল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক সাহসী সংগ্রাম। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভা শেষে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বদিক/এসএ





