প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে প্যান্ডেল ধস, অনুষ্ঠানে মঞ্চে পানি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জুন ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে উপকারভোগীদের জন্য নির্মিত প্যান্ডেলের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্যান্ডেল খুলে ফেলতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে হাজারো উপকারভোগী, দর্শনার্থী ও অতিথিকে।
শুধু প্যান্ডেলই নয়, প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে মঞ্চের উপরের ছাদেও বৃষ্টির পানি জমে যায়। কর্মীরা মঞ্চের ভেতর থেকে বাঁশ দিয়ে চাপ দিয়ে জমে থাকা পানি নামানোর চেষ্টা করেন। এতে পানি মঞ্চের ভেতরেও পড়ে। এ দৃশ্য উপস্থিত মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগেই মাঠে নির্মিত বড় প্যান্ডেলের একটি অংশ হঠাৎ বাতাসের ঝাপটায় ভেঙে পড়ে। এতে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবে অনেকেই অল্পের জন্য আহত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান। পরে দ্রুত প্যান্ডেলটি খুলে ফেলা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ‘বেল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চ, প্যান্ডেল ও অন্যান্য সাজসজ্জার দায়িত্বে ছিল। তবে বর্ষা মৌসুমের আবহাওয়া বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও টেকসই কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার পর সেটি সম্পূর্ণ খুলে ফেলা হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য আসা সাধারণ মানুষ, উপকারভোগী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন। অনেককে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আবার অনেকে বৃষ্টিতে ভিজেই অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পরও মঞ্চে বৃষ্টির পানি জমে থাকার দৃশ্য দেখা যায়। মঞ্চের ওপর টানানো ত্রিপলের বিভিন্ন অংশে পানি জমে গেলে কর্মীরা বাঁশ দিয়ে চাপ দিয়ে কিংবা ছিদ্র করে সেই পানি বের করার চেষ্টা করেন। পানি সরানোর সময় কিছু পানি মঞ্চের ভেতরেও পড়ে। এমন পরিস্থিতি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সিরাজ মিয়া নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য যদি এ ধরনের নিম্নমানের প্যান্ডেল তৈরি করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠানের অবস্থা কী হবে? সামান্য বৃষ্টি ও বাতাসেই প্যান্ডেল ভেঙে পড়েছে, মঞ্চের ওপর পানি জমেছে, পানি চুইয়ে পড়েছে। এত বড় একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আগে এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল।”
আরেক উপকারভোগী বলেন, “আমরা সকাল থেকে মাঠে ছিলাম। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্যান্ডেল ভেঙে যাওয়ার পর সবাই খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেক বৃদ্ধ ও নারীকে কষ্ট পেতে হয়েছে।”
পরে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর উপস্থিতিতেও মঞ্চের ভেতরে পানি পড়তে দেখা যায়।
দুপুর ১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পাশাপাশি ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে জীবনমান উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা, পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষা অনুদান এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক দেওয়া হয়। টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দপত্রও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
অব্যবস্থাপনার বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “ঢাকার একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানস্থলের অবকাঠামোগত কাজ করেছে। প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে মাননীয় সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।”
পূর্বদিক/এসএ





