জাতীয় চা দিবস
দেশসেরা চা পাতা চয়নকারীর পুরস্কার পেলেন চা শ্রমিক জেসমিন
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জুন ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে সারাদেশের মধ্যে ‘শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার অর্জন করেছেন ইস্পাহানি কোম্পানির নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার। ২০২৫ সালে তিনি মোট ২৫ হাজার ৬২১ কেজি চা পাতা চয়ন করে এ স্বীকৃতি অর্জন করেন। জেসমিন চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নেপচুন চা বাগানের একজন স্থায়ী শ্রমিক।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আয়োজনে জাতীয় চা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬ এর ‘শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে অতিথিদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।
এর আগে সকালে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় চা দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, এনডিসি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি; বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বাংলাদেশ বটলিফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নিয়াজ আলী চিশতী এবং চা শ্রমিক নেত্রী সনতকি রায় প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আজ দেশের ১৬০টিরও বেশি চা বাগান এবং হাজার হাজার ক্ষুদ্র চা বাগান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের চা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। জাতীয় চা দিবসের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের এই আয়োজন আমাদের গর্বের একটি শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়ার নতুন প্রত্যয়ের দিন।”
তিনি বলেন, “আমি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই আমাদের চা শ্রমিক ভাই-বোনদের। তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া এই শিল্প কখনোই এগিয়ে যেত না। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ন্যায্য মজুরি, উন্নত বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ বাংলাদেশের চা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু এই অঞ্চল শুধু চায়ের জন্য বিখ্যাত নয়; এখানে রয়েছে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হাইল হাওর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। তাই চা শিল্পের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও অপার সম্ভাবনা রয়েছে।”
এমপি বলেন, “বর্তমান বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই আমাদের চা শিল্পকেও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত জাতের চা উৎপাদন, গবেষণা, আধুনিক কারখানা, উন্নত প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব চা চাষ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, বাংলাদেশ শুধু বেশি চা উৎপাদন করবে না, বিশ্বের কাছে উন্নত মানের চায়ের একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবেও পরিচিত হবে।”
এদিকে জাতীয় চা পুরস্কারের অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ‘একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান। ‘সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বাগান’ হিসেবে পুরস্কার পায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মধুপুর চা বাগান।
এছাড়া ‘শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করে দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। ‘শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী’ হিসেবে সম্মাননা পান পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার সোনাপাতিলা এলাকার বাসিন্দা মো. মতিয়ার রহমান। ‘শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পায় মির্জাপুর চা বাগান।
অন্যদিকে ‘বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার অর্জন করে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড।
পূর্বদিক/এসএ





