কুলাউড়ায় নিজ গ্ৰামে ঈদ উদযাপন করলেন জামায়াতের আমির, তিনদিন ব্যাপী নানা কর্মসূচি
প্রকাশিত হয়েছে : ৯ জুন ২০২৫, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিজ গ্রাম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার তুলাপুরে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। শনিবার (৭ জুন) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে শৈশবের বহু স্মৃতি বিজড়িত নিজ গ্রাম তুলাপুরের পাঁচগাঁও ঈদগাহে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদের নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, আত্মনিয়োগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির পরীক্ষা। এই মহিমান্বিত দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক – অন্যায়, জুলুম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।দেশের চলমান সংকট উত্তরণে জাতিকে সত্য, ন্যায় ও ইসলামি আদর্শের পথে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ঈদের নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতি যেনতেন নির্বাচন চায় না। বিচার, সংস্কার, জুলাই ঘোষণাপত্র ও ভোটের সমতল মাঠ থাকলে রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন সম্ভব হবে। পরপর তিন বার মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি। এবার নতুন ভোটার যুব সমাজকে ভোটের সুযোগ করে দিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব। তবে দেশের সংকট শেষ হওয়া খুবই জরুরি।
এরপর তুলাপুর গ্ৰামে নিজ বাড়িতে কুরবানীর ও আত্মীয়স্বজনের সাথে সময় কাটান তিনি। পরে বাদ মাগরিব কুলাউড়া পৌরসভার মিলনায়তনে সর্বস্তরের জনসাধারণের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। সন্ধ্যায় মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কুলাউড়া পৌরসভা হলরুমে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কুলাউড়ার সর্বস্থরের মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম,কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মোঃ আব্দুল মান্নান, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোঃ মহিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা আমির খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী,উপজেলা শূরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, সাবেক ছাত্রনেতা ডঃ আব্দুল ওয়াদুদ টিপু ও শেলুর রহমান, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন, উপজেলা সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, প্রভাষক জহিরুল ইসলাম সরকার প্রমুখ।
এ সময় তিনি বলেন, জাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার সক্ষমতা যাদের রয়েছে, তারা হলেন আলিম-উলামা। আমি তাদের গভীর শ্রদ্ধা করি। আলেমদের হাতে যদি দেশের নেতৃত্ব থাকে তবে বাংলাদেশ একটি সুন্দর ও কল্যাণময় রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া কোনো সমাজের স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। যিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামাজের ইমামতি করেন, তিনিই সমাজের নেতৃত্বে উপযুক্ত ব্যক্তি। কারণ তার মধ্যেই রয়েছে সমাজকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনার মূল যোগ্যতা।

আলোচনা শেষে তিনি স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আগামীর কুলাউড়ার উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ঈদের দিন প্রচন্ড ব্যস্ততার মাঝে ও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঈদের পরদিন রোববার (৮ জুন) উপজেলার পেশাজীবী প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি বলেন তিনি আরো বলেন, অতীতে যে যা করেছে তার কিছু পাওনা তারা পেয়েছে আরো পাবে, বাকিটা আখিরাতেও পাবে। একটা প্রতিহিংসা মুক্ত সমাজ আমরা দেখতে চাই। আমি এই উপজেলার সন্তান, আমার বিরুদ্ধে ও যুদ্ধাপরাধের মামলা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তখন আমার সেই বয়সও ছিলো না। আমি সেই অর্থে কোন সংগঠনের সাথে মুঠেই যুক্ত ছিলাম না। এখন যেহেতু আমি জামায়াতে ইসলামীর আমীর, তাই আমাকে যুদ্ধাপরাধী বানানোর চেষ্টা হয়েছে। আমি কুলাউড়ার মানুষের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ। ওরা যাদের কাছে গেছে উপযুক্ত জবাব পেয়ে জেনে শুনে চলে গেছে। ওরা একবার দুবার নয়- অনেকবার বৃথা চেষ্টা করেছে। কিন্তু কুলাউড়ার একটা মানুষও খারাপ কোন কথা বলেনি। আমি এই ঝণ আজীবন শোধ করতে পারবো না।
পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট ছালিক আহমদ চৌধুরী, আনিসুর রহমান, মনির উদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মাসুক উদ্দিন, মোঃ শফিক উদ্দিন, মোহাম্মদ শামসুল হক, এড.রবিউল ইসলাম, এনামুল ইসলাম, রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন, উপজেলা সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক প্রমুখ।
পরে তিনি তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বাড়িতে ঈদ উপহার নিয়ে যান। ওইদিন বাদ মাগরিব কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের কাঠালতালী বাজারে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।
নিজ বাড়িতে রাত্রি যাপনের পর, পরদিন সোমবার (৯ জুন) সকালে বড়লেখা উপজেলার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের আয়োজিত মহিলা সমাবেশে যোগ দেন। পরে দুপুরে বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
সেখানে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলবেন আর নাগরিকত্বের প্রথম অধিকার ভোট দিতে দিবেন না এটা হবে না। আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সেই ভোট তারা স্বচ্ছভাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্য ভাবে দিতে পারে দেশে কিংবা বিদেশে থেকে।
তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর যারা জাতির উপর জুলুম করলো এখনও তারা তা অব্যাহত রেখেছে। মাঝেমধ্যে তারা মাথা উঁচু করে, বিভিন্ন কথা বার্তা বলে, তসনস করে দাও এসব বলে। এগুলোর মাধ্যমে জাতিকে অস্থির করতে চায়, আড়াই বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত খুন করলো, এতো কিছুর পর তারা অনুশোচনা করে না, জাতির কাছে মাফ চাইবে না, যা করেছে জাতির কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট তার পরও লজ্জিত হয়নি, এগুলোর জন্য তাদের অনুতপ্ত হওয়া উচিৎ। সেইগুলা না করে তারা জাতিকে অস্থির করতে চায়।

বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের আমীর এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুল বাছিতের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলী, মৌলভীবাজার-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, ঢাকা পল্টন থানা আমীর শাহিন আহমদ খান, ড. আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপু, সিলেট মহানগর শিবিরের সভাপতি শরীফ মাহমুদ, খেলাফত মজলিস উপজেলা সভাপতি মাওলানা এনামুল হক, মৌলভীবাজার শহর শিবিরের সভাপতি তারেক আজিজ, জেলা সভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা ডক্টর আব্দুল ওয়াদুদ টিপু, উপজেলা নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ আল মাফুজ সুমন ও হুমায়ুন কবির সাজু প্রমুখ। ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষ আমিরে জামায়াত বড়লেখা উপজেলায় ঈদের দিন কোরবানির গোস্ত বিতরণ করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত দুই ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে পিতা আলাউদ্দিন আলাই মিয়াকে সান্তনা দেন ও উপস্থিত সকলকে নিয়ে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন।

বিকেলে বড়লেখা উপজেলার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অমুসলিম সমাবেশে আয়োজন করে উপজেলা জামায়াত। সেখানে বক্তব্য রাখেন তিনি। খবর পান জুড়ী উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ছুটে যান, পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে মোনাজাত করেন।এরই মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে মৌলভীবাজারের জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের তিনদিনের সাংগঠনিক সফর।






