মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত, কৃষকের চোখে পানি—ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গোগালীছড়ার বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলি জমি, মৎস্য খামার ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা।
সোমবার রাতে প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি স্রোতের চাপে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর এলাকায় গোগালীছড়ার প্রায় ১৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর ও বড়কাপনসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
প্লাবনের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজতলা এবং অসংখ্য মৎস্য খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। প্রতি একরে প্রায় ২৭ হাজার টাকা খরচ করেছি। কাটার সময়ই ধান পানির নিচে চলে গেছে।”

হাকালুকি হাওর এলাকার কৃষক আব্দুস সবুর জানান, “সারা বছর কষ্ট করে ধান ফলাইছি। ঋণ করে বীজ, সার কিনেছি। কাটার আগেই সব পানির নিচে চলে গেল। এখন সংসার চালাব কীভাবে, ঋণ শোধ করব কী দিয়ে—কিছুই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছেন।
কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু বলেন, “বাঁধ ভেঙে শুধু গাজিপুর গ্রামেই প্রায় ২০ বিঘা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।”
সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জানান, “বাঁধ ভাঙনের কারণে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্য খামার, বোরো ধান ও আউশের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন মাঠে নেমেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, “কুলাউড়া ও জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ১৫টি গ্রামের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাঁধ সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
পূর্বদিক/এসএ





