শ্রীমঙ্গলে মে দিবসের সমাবেশে চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকারসহ নানা দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ১ মে ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মহান মে দিবস উপলক্ষে চা শ্রমিকদের এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতারা ভূমির অধিকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগানের দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালীর আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইন, জেমস ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ কথা কন্দ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা প্রমুখ।
সমাবেশে যোগ দিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বালিশিরা ভ্যালির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে হাজারো শ্রমিক ভাড়াউড়া চা বাগানে জড়ো হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি হয়। পরে বেলা সাড়ে ৩টায় আলোচনা সভা শুরু হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় দেড় থেকে দুইশ বছর ধরে চা বাগানে বসবাস করলেও শ্রমিকরা এখনও ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অনেকটা যাযাবরের মতো জীবনযাপন করছেন। চা বাগানে স্বাস্থ্যসেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলেও অভিযোগ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা তাদের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে তারা ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। নারী শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা নেই, মাতৃত্বকালীন ছুটি মাত্র চার মাস, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলেও শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট সরবরাহ করা হয় না। নারীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। গর্ভাবস্থায়ও শ্রমিকদের নিজস্ব মজুরি থেকেই চিকিৎসা ও পুষ্টির ব্যয় বহন করতে হয়, ফলে পুষ্টিহীনতার সমস্যা দেখা দেয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিজয় হাজরা বলেন, “প্রতিবছর মে দিবসে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরি, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয় না। আমরা আশা করি বর্তমান সরকার আমাদের দাবিগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি আরও বলেন, চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই। ঝড়-বৃষ্টি ও দুর্যোগের সময় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তাই দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “চা বাগানের মানুষের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি, এখন সরকারি উদ্যোগে কাজ করবো। ইতোমধ্যে সংসদে চা শ্রমিকদের বিষয়টি একাধিকবার তুলে ধরেছি। তাদের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ অব্যাহত থাকবে।”
পূর্বদিক/এসএ






