রিপোর্টিংই সাংবাদিকতার প্রাণ
প্রকাশিত হয়েছে : 26 June 2026, 10:47 am

ছবি: পূর্বদিক
রুপম আচার্য্য, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো রিপোর্টিং। মাঠে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, সত্য উদঘাটন এবং জনস্বার্থে তা জনগণের সামনে তুলে ধরাই একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা অনলাইন মাধ্যমের প্রাণশক্তি হলো মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং। আর সেই রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমেই সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায় ও মানুষের নানাবিধ সমস্যা উঠে আসে জনসমক্ষে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে হামলা, হুমকি, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্নীতি, ভূমিদস্যুতা, অবৈধ বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসা, পরিবেশ ধ্বংস, রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা প্রভাবশালীদের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকরা প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায়ই দেখা যায়, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হচ্ছে। কখনও ক্যামেরা ভাঙচুর করা হচ্ছে, কখনও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আবার কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হামলাকারীরা আইনের আওতায় না আসায় এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কারণ একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা যদি নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে সত্য তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানো ব্যাহত হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন।
বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে সংবাদ পরিবেশনের গতি বেড়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে বেড়েছে সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জও। মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের এখন শুধু তথ্য সংগ্রহই নয়, নানা ধরনের চাপ ও ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী কিংবা স্বার্থান্বেষী মহল সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজেরও দায়িত্ব। কারণ একজন সাংবাদিক যখন কোনো অনিয়ম বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেন, তখন তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো সমাজের স্বার্থেই কাজ করেন। তাই সাংবাদিকের কলম, ক্যামেরা ও কণ্ঠকে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন পরিবেশ, পেশাগত নিরাপত্তা এবং আইনের সুরক্ষা। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের মাধ্যমে দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই নয়; এটি সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার একটি দায়িত্বশীল পেশা। আর সেই দায়িত্ব পালনের প্রধান মাধ্যম হলো রিপোর্টিং। তাই বলা যায়, রিপোর্টিংই সাংবাদিকতার প্রাণ। রিপোর্টিং যত শক্তিশালী হবে, সমাজে সত্যের আলো তত বেশি ছড়িয়ে পড়বে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি তত সুদৃঢ় হবে।
রুপম আচার্য্য, সাংবাদিক, দ্য ডেইলি অবজারভার





