৪০০ নয়, ৫০০ শয্যার দাবি: মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এমপি নাসের রহমানের পরিদর্শন
প্রকাশিত হয়েছে : ৪ মে ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চিকিৎসাসেবায় বাড়তি চাপ, রোগীদের দীর্ঘ সারি এবং শয্যা সংকট—এই বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। বর্তমানে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে সরাসরি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার জোর দাবি তুলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাসেবার চাহিদাও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ৪০০ শয্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে এখন সময় ৫০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা অর্জনের।
এর আগে হাসপাতালটিকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। পাশাপাশি ৪০০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করে একটি ডিও লেটারও প্রদান করেন তিনি।
তবে সময়ের সঙ্গে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যাওয়ায় এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি ৫০০ শয্যার দাবি সামনে এনেছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার (৪ মে) দুপুরে হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এমপি নাসের রহমান। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। আলোচনায় হাসপাতালটিকে আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরের পরিকল্পনার বিষয়টিও উঠে আসে।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু জানান, ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরিকল্পনায় রয়েছে পুরোনো তিনতলা ভবন ভেঙে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ বলেন, ৪০০ শয্যার পরিবর্তে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা গেলে রোগীদের আরও কার্যকরভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, ২০২১ সাল থেকে হাসপাতালের এমআরআই মেশিন অকেজো হয়ে রয়েছে, যা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে সিটিস্ক্যান ও ডায়ালাইসিস সেবা চালু থাকলেও ভবিষ্যতে সিসিইউ ও আইসিইউ স্থাপনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ডা. দিলশাদ পারভীন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমেদ রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়দের মতে, এই হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং পুরো জেলার স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রবিন্দু। তাই শয্যা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে পুরো অঞ্চলের চিকিৎসাসেবার চিত্র।
এখন সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি শব্দ—৫০০ শয্যা।
পূর্বদিক/এসএ





