ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজি
সিলেটে র্যাব-৯ এর অভিযানে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার
প্রকাশিত হয়েছে : ৬ মে ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে ‘হানিট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পলাতক আসামি বকুল আহমদ জিহাদ (৩০) কে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার বাদে রণকেলী এলাকার বাসিন্দা। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি তাকে জেসমিন আক্তারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চলতে থাকে।
গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে ভিকটিম তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে জেসমিন আক্তারের সঙ্গে দেখা করতে সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন যতরপুর এলাকার একটি বাসায় যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চক্রের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভিকটিম ও তার বন্ধুকে জিম্মি করে। তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়।
এক পর্যায়ে তাদের কাপড় খুলে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে চক্রটি তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা, একটি রূপার চেইন ও একটি রূপার ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
মানসম্মানের ভয়ে ভিকটিম পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে চক্রটির হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ মে ২০২৬ তারিখ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে শাহপরান থানার মিরের চক এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি বকুল আহমদ জিহাদকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে এই মামলার আরও একজন আসামিকে র্যাব-৯ গ্রেফতার করেছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পূর্বদিক/এসএ





