মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৬ মে ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
পূর্বদিক ডেস্ক: রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এসব অপরাধ দমনে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।
বুধবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে জমা দেওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। এসব অস্ত্র দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইস্যু করা লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র ফেরত দিতে হবে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া লাইসেন্সগুলো যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘গায়েবি মামলা’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারায় নিষ্পত্তি করা হবে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত আসামি শনাক্তে জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তিরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনে টাকা যাচাইয়ের যন্ত্র সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ঈদের আগে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করে সারাদেশের সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নৌপথে যাতায়াত নিরাপদ রাখতে ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রী ওঠানামায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করে অন্তত সাত দিন চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত চাপের কারণে চামড়া নষ্ট না হয়।
সর্বশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পূর্বদিক/এসএ





