চা শ্রমিকদের নিয়ে চা বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মে ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে চা শ্রমিকদের দৈনিক কর্মঘণ্টা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমিক নেতারা চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘লেবার হাউজে’ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ঠ তাঁতী ও জুড়ি ভ্যালীর সভাপতি কমল বুনার্জীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে শ্রমিক নেতারা বলেন, সম্প্রতি এটিএন বাংলা চট্টলার ‘মোখমুখি’ নামের একটি সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে চা বোর্ড চেয়ারম্যান চা শ্রমিকদের দৈনিক ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কাজ করার অভিযোগ করেন এবং চা শিল্পে লোকসানের জন্য শ্রমিকদের দায়ী করেন। অথচ বাস্তবে চা শ্রমিকরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কঠোর পরিশ্রম করে আসছেন।
তারা বলেন, বিভিন্ন চা বাগানে এখনও মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ পরিশোধ, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে এনটিসি মালিকানাধীনসহ বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্চনার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও বলেন, চা শ্রমিকদের “দোষারোপ” করে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে চা উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে বলে গর্ব করা যুক্তিসঙ্গত নয়। শ্রমিকরা যদি সত্যিই ৩-৪ ঘণ্টা কাজ করতেন, তাহলে দেশের চা শিল্প এতদূর এগোতে পারত না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তাদের দাবি, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা শ্রমিকরাই দেশের চা শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন। চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য শ্রমিকদের হেয় প্রতিপন্ন করছে এবং তাদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করছে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বিশেষ করে এনটিসি মালিকানাধীনসহ বিভিন্ন চা বাগানে শ্রমিকদের ওপর শোষণ ও বঞ্চনা চলমান থাকলেও চেয়ারম্যান একতরফাভাবে মালিকপক্ষের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি চায়ের বাজারে ফ্লোর রেট বৃদ্ধি নিয়ে কথা বললেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেননি।
ইউনিয়নের নেতারা বলেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে চা শ্রমিকরাই এ দেশের চা শিল্প গড়ে তুলেছেন এবং আগামীতেও শিল্পের উন্নয়নে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু চেয়ারম্যানের বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা শ্রমিকদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রমিক নেতারা বলেন, “চা বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর শ্রমিকদের কাজে উৎসাহ কমে গেছে। শ্রমিকরা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করেও কম মজুরি পান এবং কষ্ট করে সংসার চালান। এমন বক্তব্য শ্রমিকদের অসন্তোষ আরও বাড়াবে।”
পূর্বদিক/এসএ




