রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উৎসব: শ্রীমঙ্গলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুগ্ধতা ছড়াল সংগীত-নৃত্য পরিবেশনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ মে ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে শ্রীমঙ্গল নবজাগরণ দলের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার (২৫ মে) দিনব্যাপী রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রীমঙ্গলের সনামধন্য সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। পরে নৃত্যাঙ্গন ও নাট্যবেদ নৃত্য নিকেতনের শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, নাট্যকার ও সংস্কৃতিকর্মী গোবিন্দ রায় সুমন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এসকে দাশ সুমন, নাট্যবেদ নৃত্য নিকেতনের পরিচালক অনিতা দেব, নৃত্যাঙ্গনের পরিচালক সাজু দেব এবং সাংবাদিক রুপম আচার্য্য।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন দিক সংক্ষেপে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা বলেন, “তরুণদের সংগঠন শ্রীমঙ্গল নবজাগরণ দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ও সুশৃঙ্খল। বিশেষ করে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। আয়োজনের প্রতিটি পর্বেই ছিল নান্দনিকতার ছোঁয়া। আমরা প্রত্যাশা করি, ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের সুন্দর ও গোছানো সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়মিতভাবে উপহার দেবে।”

শ্রীমঙ্গল নবজাগরণ দলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা উল্লাস দেবনাথ বলেন, “শ্রীমঙ্গল নবজাগরণ দলের এই আয়োজন হয়তো ক্ষুদ্র পরিসরের, তবে আমরা সর্বান্তকরণে চেষ্টা করেছি বাঙালির প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করতে। এই সংগঠনের সদস্যরা সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের আগ্রহ, উৎসাহ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। তাই উপদেষ্টা হিসেবে আমি সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতির ওপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম, যেখানে প্রায় ৬০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির পাশাপাশি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। সর্বোপরি, সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিক অংশগ্রহণে আমাদের এই আয়োজন সার্থকতা লাভ করেছে।”
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার হিসেবে সনদপত্র ও মেডেল বিতরণ করেন।
পূর্বদিক/এসএ






