আগস্টের মধ্যে এল নিনো তৈরির ৮০% আশঙ্কা, বাড়বে তাপপ্রবাহ ও দুর্যোগের ঝুঁকি: ডব্লিউএমও
প্রকাশিত হয়েছে : ২ জুন ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি মাস থেকে আগস্টের মধ্যে ‘এল নিনো’ জলবায়ু পরিস্থিতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থাটি জানায়, উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার স্বাভাবিক ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
ডব্লিউএমওর জুন-আগস্ট মেয়াদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বজায় থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। আঞ্চলিক জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম মৌসুমি বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী বায়ুচাপ, বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো ফিরে আসে এবং এটি প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়।
প্রকৃতিতে এল নিনোর বিপরীত অবস্থা হলো ‘লা নিনা’, যেখানে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে। এই দুই অবস্থার মধ্যবর্তী সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকে।
ডব্লিউএমওর ত্রৈমাসিক জলবায়ু তথ্য অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মধ্যে এল নিনো পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি। অধিকাংশ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার হতে পারে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, “বিশ্বের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এল নিনোর প্রভাবে খরা, ভারী বৃষ্টিপাত এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি স্থলভাগ ও মহাসাগর উভয় ক্ষেত্রেই তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়বে।”
এর আগের এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ সাল ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড হয়। পরবর্তী বছর ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা উষ্ণতার পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে দেয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “এল নিনো এখন দোরগোড়ায়। বিশ্ববাসীর উচিত এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা। ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পৃথিবীতে এল নিনো ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো কাজ করবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের চলমান প্রভাবের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও খাদ্যনিরাপত্তা সংকটের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
পূর্বদিক/এসএ





