সালাহ্ উদ্দিন ইবনে শিহাবের ৫টি নাত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ

১. যাওরে উড়ে সব দুরুদ
সেই সুদূরে করুণ সুরে
যাও রে উড়ে সব দুরুদ
দরদমাখা গজলগানে
উথলে উঠে সব ওজুদ।।
কোন সে মধুর ভাবতরঙ্গে
ছুটে ধারায় আবে জাম।
তুমি নবী আলোর রবি
রহমতে আলম।।
অঙ্গে অঙ্গে মন বিহঙ্গে
জাগলো আজি কার সে নাম
কার ওসিলায় দোয়া মাঙ্গে
বিবি হাওয়া ও আদাম।।
কার সে নামে সৃষ্টি সারা
বিশ্বনিখিল ধরাধাম।
তুমি নবী আলোর রবি
রহমতে আলম।।
নীল সাগরে লাল পাহাড়ে
গাছপাথরে কার ধ্বনি
আকসা থেকে আসমানী দ্বার
বাজলো যে তার সুর বাণী।।
বেহেশতে আজ শয্যা নূরের
আরশে বাজে মধুর নাম।
তুমি নবী আলোর রবি
রহমতে আলম।।
ফুলে ফুলে পাতায় মূলে
তার নামেরই জয়গান
আম্বিয়াকূল ফেরেশতারা
দুরুদ ভেজে সাত আসমান।।
নূরের স্রোতে ভাসে ধরা
জানায় সবে আসসালাম।
তুমি নবী আলোর রবি
রহমতে আলম।।#
২. মরুবনের ও হাওয়া
ও আকাশের উজল তারা
গহীন রাতের চাঁদ-সিতারা
মরুবনের ও হাওয়া তুই
শুনে যারে কথা-
দেখতে যদি পাস নবীকে
দ্বীন ইসলামের সেই রবিকে
বলবে কি রে বিনয় করে
আমার আকুলতা।।
মরুবনের ও হাওয়া তুই
শুনে যারে কথা-
বলবে কি রে বিনয় করে
আমার আকুলতা।
উড়াল পাখি যাও রে শুনে
মনে মনে কি সুর বুনে
যাও বুঝি রে দূর মদিনায়
নবীর দেখা পেতে-
তোর ডানার সে ছটফটানি
আমার বুকে আনলো টানি
সাত সাহারার তৃষ্ণা গভীর
জাগে নিঝুম রাতে।
সেই না পথে চেয়ে আমার
বাড়ে চঞ্চলতা।।
সেই নামে কি ফুলগুলিরে
এতো সুবাস তাই পেলিরে
হরিণ পেল কস্তুরি তার
এই নামেরি মহিমায়-
মুক্তি পেলো আদম হাওয়া
পূর্ণ হলো তাদের চাওয়া
দোজাহানের সৃষ্টি সারা
মারহাবা ধ্বনি যে গায়।
এই মধু নাম জপে কতো
ফুলপাখি তরুলতা।
ও মদিনার পথের ধুলি
ঘুরে সকল ওলিগলি
আমার চোখে সুরমা হয়ে
পর্দা খোলে দাও।
নয়নজলে ভিজে ভিজে
উজাড় করে সব আমি যে
রইবো পড়ে আকুল হয়ে
নবীর রওয়াজায়।
ঘুচবে আমার এ জীবনের
আছে যতো ব্যথা।।#
৩. কামলিওয়ালা
নবী মোহাম্মদ সাল্লুয়ালা
কামলিওয়ালা দিলের চাঁদ
মিঠাও জ্বালা করো উজালা
দূর করো এই মন বিষাদ।।
হয়নি দেখা নয়নও মেলিয়া
জীবনও গেল শুধু কাঁদিয়া
চোখ জুড়িয়ে আসলো না আর
মিটলো না তাঁর দেখার স্বাদ।।
পরশ পাথর ছুঁইনি আমি
শুনেছি তাহা সবচে দামি
তোমার পরশ পেল যারা
পেলো তারা আল আহাদ।।
যারা বেসেছে ভালো সাহাবী তারা
তোমার নামেই আত্মহারা
খাঁটির সোনার চেয়েও সোনা
দ্বীন দুনিয়া হলো আবাদ।।
এই দুনিয়ার লোভে পড়ে
কী যে হবে রোজ হাশরে
ক্ষমা করো হযরত আমায়
শাফায়াতের তুমি মুরাদ।।#
৪. নবীয়ে রহমত
খোশ নসিবি হলাম আমি নূর নবীর উম্মত
সবার চেয়ে শ্রেষ্ট আমার নবী ও হযরত।।
নাম নিয়ে তাঁর আঁধার ভূবন
জ্যোতি পেয়ে হয় রওশন
নীল গগনে চাঁদের হাসি জোৎস্নাভরা রাত।
আরব আজম এই ধরাধম
সৃষ্টি নিখিল কী অনুপম
সবার মূলে আছেন আমার আলমে রহমত।
আমেনা মার ফুলের কানন
খুশবো বিলায় সারা ভূূবন
আঁধার ধরায় খুশির ধারায় ছুটে আব হায়াত।
তাঁর মধুনাম জপে আদম
হাওয়ার বুকে বাজে হরদম
তার নামেতে মুক্তি লিখা তার নামে বরকত।#
৫. তোমার নামের তরিকায়
তোমায় সৃজন কুঞ্জে কূজন
কলকলিয়ে ঝরণা ধায়
হাশর-মিজান সৃষ্টি তামাম
করেন সৃজন বিধাতায়।।
আমার জীবন যাকনা কেটে
তোমার নামের তরিকায়।
ইয়া রাসুলি ইয়া হাবিবি
তোমার কাছে জায়গা চায়।
তুমি নবী আলোর রবি
তোমার নূরের দরিয়ায়
পাপীর জীবন গুনার প্লাবন
আঁধার সবই কেটে যায়।।
ডাকো আমায় ওই মদিনায়
রওজা পাকের কিনারায়।
আমার জীবন যাকনা কেটে
তোমার নামের তরিকায়।
ইয়া রাসুলি ইয়া হাবিবি
তোমার কাছে জায়গা চায়।
তোমার জনম কী শিহরণ
কিসরাতো সে আলো পায়
পাপী তাপি জগৎব্যাপী
খুশিতে পরাণ জুড়ায়।।
ভেজাও আমার তপ্ত হৃদয়
সে আলোরই ফোয়ারায়।
আমার জীবন যাকনা কেটে
তোমার নামের তরিকায়।
ইয়া রাসুলি ইয়া হাবিবি
তোমার কাছে জায়গা চায়।
বিশ্বজুড়ে আঁধার ফোঁড়ে
আসে আলোর নতুন ভোর
পেয়ারা নবী আল আরাবি
আমার ঈমান আমার নূর।।
দাও রাঙিয়ে জীবন আমার
তোমার নূরের ইশারায়।
আমার জীবন যাকনা কেটে
তোমার নামের তরিকায়।
ইয়া রাসুলি ইয়া হাবিবি
তোমার কাছে জায়গা চায়।#





