logo
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • স্থানীয় সরকার
    • মৌলভীবাজার
    • সিলেট
  • সাহিত্য-সংস্কৃতি
  • পর্যটন
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • আরও
    • ইসলামী জিন্দেগী
    • পত্রিকা
    • মুক্তমত
    • শিক্ষাঙ্গন
    • সাফল্য
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • মৌলভীবাজার
  • সিলেট
  • প্রবাস
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • স্থানীয় সরকার
  • খেলাধুলা
  • ছড়া সমগ্র
  • পর্যটন
  • নারী ও শিশু
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • বিনোদন
  • মুক্তমত
  • সম্পাদকীয়
  • ইসলামী জিন্দেগী
  • শিক্ষাঙ্গন
  • সাফল্য
  • সাহিত্য-সংস্কৃতি
  • স্বাস্থ্য-কথন
  • পত্রিকা
  • ফটোগ্যালারী
  1. প্রচ্ছদ
  2. ইসলামী জিন্দেগী

পবিত্র শবে মেরাজ— ইতিহাস ও তাৎপর্য


প্রকাশিত হয়েছে : ১২ মে ২০১৫, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ

 

 www.purbodeek.com

লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসাবে আখ্যায়িত, ইসলাম ধর্মমতে যে রাতে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিক উপায়ে উর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার  সাথে সাক্ষাৎ করেন।  মুসলমানরা এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদযাপন করেন। ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ  নামাজ  মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক অর্থাৎ ফরজ   নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মুহাম্মদ (স.) এর নবুওয়াতের একাদশ বত্সরের (৬২০ খ্রিস্টাব্দে) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রথমে কাবা শরীফ  থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস   বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন।  অতঃপর তিনি বোরাক   বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন।  ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহ’র সাক্ষাৎ লাভ করেন। এই সফলে ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.) তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন।

 কোরআন শরিফের সুরা বনী ঈসরাইলের  প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنْ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّه هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
বঙ্গার্থ: “পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁহার এক বান্দা (মুহাম্মদ স.) কে মসজিদে হারাম (কাবাঘর) হইতে মসজিদে আকসা (বাইতুল মোকাদ্দাস) পর্যন্ত পরিভ্রমণ করাইয়াছেন।  ইহার মধ্যে তাঁহাকে অসংখ্য নিদর্শনাবলী দেখান হইয়াছে।

শব্দগত ব্যুৎপত্তি

যদিও ইসলাম ধর্মের ধর্মগ্রন্থে “মেরাজ” শব্দটির উল্লেখ দেখা যায় না, কিন্তু যখন অবিশ্বাসীগণ মুহাম্মদের নবুয়্যতের বা ঐশ্বিক বাণীর প্রমাণস্বরূপ স্বর্গে আরোহণকরত প্রমাণ আনতে বলে, তখন সেখানে উল্লিখিত শব্দ ছিল তারকা ফিস সামা-য়ী: স্বর্গে আরোহণ করো।  যেখানে তারকা মানে আরোহণ করো, আর শব্দটি রাকিয়া থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ “সে আরোহণ করেছিল”।  আরবি মেরাজ শব্দটি আরাজা থেকে গৃহীত, যার অর্থ সে আরোহণ করেছিল।  কিন্তু এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো রাকিয়া দ্বারা দৈহিক আরোহণ বোঝায়, অথচ আরাজা দ্বারা আত্মিক আরোহণ বোঝায়।  তাই কুরআন কর্তৃক মুহাম্মদের “আত্মিক আরোহণ” প্রমাণিত।
এ সঙ্গে পবিত্র কুরআনের বলা হয়েছে—

এমন একদিন ফেরেশতা এবং রুহ আল্লাহর দিকে উর্ধ্বগামী হয় যা পার্থিব পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান।  [আল কুরআন ৭০:৪]

বিবরণ

মেরাজ ঘটেছিল মুহাম্মদের নবুয়্যত বা ঐশ্বিক বাণী প্রাপ্তির দশম বছরে। রাজের ঘটনায় দুটো অংশ ছিল: ১. আল-ইসরা বা জেরুজালেম রাত্রভ্রমণ, এবং ২. মেরাজ বা উর্ধ্বারোহণ বা স্বর্গারোহণ।

একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়: নবুয়্যতের দশম বছর, সাত মাস; ২৭ রজব তারিখে মুহাম্মদ, আবু তালিব  মেয়ে হিন্দার বাড়িতে ছিলেন।  আবার অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ঐ রাতে মুহাম্মদ কাবাতে  ঘুমান, এবং তিনি কাবা’র ঐ অংশে ঘুমান, যেখানে কোনো ছাদ ছিল না (হাতিম)।

হিন্দার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঐ রাতে, মুহাম্মদ, রাতের প্রার্থনারে ঘুমাতে যান। খুব ভোরে মুহাম্মদ উঠে সবাইকে জাগালেন এবং নামাজ আদায় করলেন। হিন্দাও তাঁর সাথে নামাজ আদায় করলেন।  নামাজ শেষে মুহাম্মদ(সা.) জানালেন-

ও উম্মুহানি (হিন্দার ডাক নাম), এই ঘরে আমি তোমাদের সাথে প্রার্থনা করেছি।  যেমন তোমরা দেখেছ। তারপর আমি পবিত্র স্থানে গিয়েছি এবং সেখানে প্রার্থণা সেরেছি। এবং তারপর তোমাদের সাথে ভোরের প্রার্থনা সারলাম, যেমন তোমরা দেখছো।

আনাছ (রা:) মালেক ইবনে সা’সাআ’হ (রা.) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন—

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে যেই রাত্রে আল্লাহ তাআলা পরিভ্রমণে নিয়া গিয়াছিলেন সেই রাত্রের ঘটনা বর্ণনায় ছাহাবীগণের সম্মুখে তিনি বলেছেন, যখন আমি কা’বা গৃহে উন্মুক্ত অংশ হাতীমে (উপণীত হইলাম এবং তখনও আমি ভাঙা ঘুমে ভারাক্রান্ত) ঊর্ধ্বমুখী শায়িত ছিলাম, হঠাৎ এক আগন্তক ফেরেশতা জিব্রাঈল (আ.) আমার নিকট আসিলেন (এবং আমাকে নিকটবতী/ জমজম কূপের সন্নিকটে নিয়া আসিলেন)। অতঃপর আমার বক্ষে ঊধর্ব র্সীমা হইতে পেটের নিম্ন সীমা পর্যন্ত চিরিয়া ফেলিলেন এবং আমার হৃৎপিণ্ড বা কল্বটাকে বাহির করিলেন। অতঃপরকটি স্বর্ণপাত্র উপস্থিত করা হইল, যাহা ঈমান (পরিপক্ব সত্যিকার জ্ঞানবর্ধক) বস্তুতে পরিপূর্ণ ছিল ।  আমার কল্বটাকে (জমজমের পানিতে) ধৌত করিয়া তাহার ভিতরে ঐ বস্তু ভরিয়া দেওয়া হইল এবং কল্বটাকে নির্ধারিত স্থানে রাখিয়া আমার বক্ষকে ঠিকঠাক করিয়া দেওয়া হইল।  অতপর আমার জন্য খচ্চর হইতে একটু ছোট, গাধা হইতে একটু বড় শ্বেত বর্ণের একটি বাহন উপস্থিত করা হইল তাহার নাম “বোরাক”, যাহার প্রতি পদক্ষেপ দৃষ্টির শেষ সীমায়।  সেই বাহনের উপর আমাকে সওয়ার করা হল।  ঘটনা প্রবাহের ভিতর দিয়া জিব্রাঈল (আ.) আমাকে লইয়া নিকটবর্তী তথা প্রথম আসমানের দ্বারে পৌছিলেন এবং দরজা খুলিতে বলিলেন।  ভিতর হইতে পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হইল, জিব্রাঈল স্বীয় পরিচয় প্রদান করিলেন। অতপর জিজ্ঞাসা করা হইল, আপনার সঙ্গে কে আছেন? জিব্রাঈল বলিলেন, মুহাম্মদ (স.) আছেন। বলা হইল, (তাঁহাকে নিয়া আসিবার জন্যই ত আপনাকে) তাঁহার নিকট পাঠান হইয়াছিল? জিব্রাঈল বলিলেন হাঁ।  তারপর আমাদের প্রতি মোবারকবাদ জানাইয়া দরজা খোলা হইল। গেটের ভিতরে প্রবেশ করিয়া তথায় আদম (আ.)-কে দেখিতে পাইলাম।  জিব্রাঈল আমাকে তাঁহার পরিচয় করাইয়া বলিলেন, তিনি আপনার আদি পিতা আদম (আ.), তাঁহাকে সালাম করুন। আমি তাঁহাকে সালাম করিলাম।  আমার সলামের উত্তরদানে আমাকে “সুযোগ্য পুত্র ও সুযোগ্য নবী” আখ্যায়িত করিলেন এবং খোশ আমদেদ জানাইলেন ।

অতপর জিব্রাঈল আমাকে লইয়া দ্বিতীয় আসমানের দ্বারে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতে বলিলেন। এখানেও পূর্বের ন্যায় কথোপকথন হইল এবং শুভেচ্ছ মোবারকবাদ জনাইয়া দরজা খোলা হইল। ভিতরে প্রবেশ করিয়া তথায় ইয়াহইয়া (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর সাক্ষাত পাইলাম; তাঁহাদের উভয়ের নানী পরস্পর ভগ্নী ছিলেন।  জিব্রাঈল আমাকে তাঁহাদের পরিচয় দানে সালাম করিতে বলিলেন, আমি তাঁহাদিগকে সালাম করিলাম।  তাঁহারা আমার সালামের উত্তর প্রদান করত: “সুযোগ্য ভ্রাতা সুযোগ্য নবী” বলিয়া আমাকে খোশ আমদেদ জানাইলেন।

অতপর জিব্রাঈল (আ.) আমাকে লইয়া তৃতীয় আসমানের দ্বারে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতে বলিলেন। তথায়ও পূর্বের ন্যায় কথোপকথনের পর শুভেচ্ছা স্বাগত জানাইয়া দরজা খোলা হইল। ভিতরে প্রবেশ করিয়া ইউসুফ (আ.)-এর সাক্ষাত পাইলাম। জিব্রাঈল (আ.) আমাকে তাঁহার সহিত পরিচয় করাইয়া সালাম করিতে বলিলেন; আমি তাঁহাকে সালাম করিলামা তিনি সালামের উত্তর দান করতঃ আমাকে “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়া মোবারকবাদ জানাইলেন । অত:পর আমাকে লইয়া জিব্রাঈল চতুর্থ আসমানের নিকটে পৌছিলেন এবং দরজা খুলিতে বলিলেন। সেখানেও পূর্বের ন্যায় প্রশ্নোত্তরের পর শুভেচ্ছা স্বাগত জানাইয়া দরজা খোলা হইল । ভিতরে প্রবেশ করিয়া আমরা তথায় ইদ্রীস (আ.)-এর সাক্ষাত পাইলাম ।  জিব্রাঈল আমাকে তাঁহার পরিচয় করাইয়া সালাম করিতে বলিলেন। আমি তাঁহাকে সালাম করিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়া আমাকে মারহাবা জানাইলেন। অতঃপর জিব্রাঈল আমাকে লইয়া পঞ্চম আসমানে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতে বলিলেন। এই স্থানেও পূর্বের ন্যায় প্রশ্নোত্তর চলার পর শুভেচ্ছ ও মোবারকবাদ দানের সহিত দরজা খোলা হইল।  আমি ভিতরে পৌছিয়া হারুন (আ.)-এর সাক্ষাত পাইলাম জিব্রাঈল আমাকে তাঁহার পরিচয় দানে সালাম করিতে বলিলেন। আমি সালাম করিলাম।  তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়া আমাকে খোশ আমদেদ জানাইলেন। তারপর জিব্রাঈল আমাকে লইয়া ষষ্ঠ আসমানের দরজায় পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতে বলিলেন । এস্থানেও পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হইলে জিব্রাঈল স্বীয় পরিচয় দান করিলেন, অতঃপর সঙ্গে কে আছে জিজ্ঞাস করা হইল। তিনি বলিলেন, মূহাম্মদ (স.); বলা হইল, তাঁহাকে ত নিয়া আসিবার জন্য অপনাকে পাঠান হইয়াছিল? জিব্রাঈল বলিলেন, হাঁ।  তৎক্ষণাত শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাইয়া দরজা খোলা হইল।  তথায় প্রবেশ করিয়া মূসা (আ.)-এর সাক্ষাত পাইলাম । জিব্রাঈল আমাকে তাঁহার পরিচয় জ্ঞাত করিয়া সালাম করিতে বলিলেন। আমি তাঁহাকে সালাম করিলাম। তিনি সালামের উত্তর প্রদান করিলেন এবং “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়া আমাকে মোবারকবাদ জানাইলেন। যখন আমি এই এলাকা ত্যাগ করিয়া যাইতে লাগিলাম তখন মূসা (আ.) কাঁদিতেছিলেন । তাঁহাকে কাঁদিবার কারণ জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিলেন, আমি কাঁদিতেছি এই কারণে যে, আমার উম্মতে বেহেশত লাভকারীর সংখ্যা এই নবীর উম্মতের বেহেশত লাভকারীর সংখ্যা অপেক্ষা কম হইবে অথচ তিনি বয়সের দিক দিয়া যুবক এবং দুনিয়াতে প্রেরিত হইয়াছেন আমার পরে।  তারপর জিব্রাঈল আমাকে লইয়া সপ্তম আসমানের প্রতি আরোহণ করিলেন এবং তাহার দ্বারে পৌঁছিয়া দরজা খুলিতে বলিলেন।  এস্থনেও পূর্বের ন্যায় সকল প্রশ্নোত্তরই হইল এবং দরজা খুলিয়া শুভেচ্ছা ও স্বাগত জনান হইল। আমি ভিতরে প্রবেশ করিলাম। তথায় ইব্রাহীম (আ.)-এর সাক্ষাত লাভ হইল।  জিব্রাঈল আমাকে বলিলেন, তিনি আপনার (বংশের আদি) পিতা, তাঁহাকে সালাম করুন। আমি তাঁহাকে সালাম করিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং “সুযোগ্য পুত্র, সুযোগ্য নবী” বলিয়া মারহাবা ও মোবারকবাদ জানাইলেন ।

অতপর আমি সিদরাতুল মোনতাহার নিকট উপনীত হইলাম। (তাহা এক বড় প্রকাণ্ড কূল বৃক্ষবিশেষ) তাহার এক একটা কুল হজর অঞ্চলে তৈয়ারি (বড় বড়) মটকার ন্যায় এবং তাহার পাতা হাতীর কানের ন্যায়। জিব্রাঈল আমাকে বলিলেন, এই বৃক্ষটির নাম “সিদরাতুল মোনতাহা”। তথায় চারটি প্রবাহমান নদী দেখিতে পাইলাম- দুইটি ভিতরের দিকে প্রবাহিত এবং দুইটি বাইরের দিকে। নদীগুলির নাম সম্পর্কে আমি জিব্রাঈলকে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, ভিতরের দুইটি বেহেশতে প্রবাহমান (সালসাবিল ও কাওসার নামক) দুইটি নদী।  আর বাহিরের দিকে প্রবাহমান দুইটি হইল (ভূ-পৃষ্ঠের মিসরে প্রবাহিত) নীল ও (ইরাকে প্রবাহিত) ফোরাত (নদী বা তাহাদের নামের মূল উৎস)।  তারপর আমাকে “বায়তুল মা’মুর” পরিদর্শন করান হইল। তথায় প্রতিদিন (এবাদতের জন্য) সত্তর হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হইয়া থাকেন (যে দল একদিন সুযোগ পায় সেই দল চিরকালের জন্য দ্বিতীয় দিন সুযোগ গ্রাপ্ত হয় না)।

অতঃপর (আমার সৃষ্টিগত স্বভাবের স্বচ্ছতা ও নির্মলতা প্রকাশ করিয়া দেখাইবার উদ্দেশে পরীক্ষার জন্য) আমার সম্মুখে তিনটি পাত্র উপস্থিত করা হইল। একটিতে ছিল সুরা বা মদ,অপরটিতে ছিল দুগ্ধ, আরেকটিতে মধু আমি দুগ্ধের পাত্রটি গ্রহণ করিলামা। জিব্রাঈল বলিলেন, দুগ্ধ সত্য ও খাঁটি স্বভাগত ধর্ম ইসলামের স্বরূপ; (সুতরাং, আপনি দুগ্ধের পাত্র গ্রহণ করিয়া ইহাই প্রমাণ করিয়াছেন যে,) আপনি সত্যও স্বভাবগত ধর্ম ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন এবং আপনার উসিলায় আপনার উম্মতও তাহার উপর থাকিবে।

তারপর আমার শরীয়তে প্রত্যেক দিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার বিধান করা হইল। আমি ফিরিবার পথে মূসা (আ.) এর নিকটবতী পথ অতিক্রম করা কালে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, বিশেষ আদেশ কি লাভ করিয়াছেন? আমি বলিলাম, পঞ্চাম ওয়াক্ত নামায। মুসা (আ.) বলিলেন, আপনার উম্মত প্রতিদন পঞ্চাশ ওয়াক্ত নমায আদায় করিয়া যাইতে সক্ষম হইবে না। আমি,সাধারণ মানুষের স্বভাব সম্পর্কে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করিয়াছি এবং বনী ইস্রাঈলগণকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করিয়েছি; সুতরাং আপনি পরওয়ারদেগারের দরবারে আপনার উম্মতের জন্য এই আদেশ আরও সহজ করার আবেদন করুন। হযরত (স.) বলেন, আমি পরওয়ারদেগারের খাস দরবারে ফিরিয়া গেলাম। পরওয়ারদেগার (দুইবারে পাঁচ পাঁচ করিয়া) দশ ওয়াক্ত কম করিয়া দিলেন। অতঃপর আমি আবার মূসার নিকট পৌঁছালাম,তিনি পূর্বের ন্যায় পরামর্শই আমাকে দিলেন। আমি,পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়া গেলাম এইবারও (ঐরূপ) দশ ওয়াক্ত কম করিয়া দিলেন।  পুনরায় মূসার নিকট পৌঁছিলে তিনি আমাকে এইবারও সেই পরামর্শই দিলেন।  আমি পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়া গেলাম এবং (পূর্বের ন্যায়) দশ ওয়াক্ত কম করিয়া দিলেন।  এইবারও মূসা (আ.)-র নিকট পৌছিলে পর তিনি আমাকে পূর্বের ন্যায় পরামর্শ দিলেন। আমি পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়া গেলাম, এইবার আমার জন্য প্রতি দিন পাঁচ ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হইল । এইবারও মূসার নিকট পৌঁছিলে পর আমাকে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কি আদেশ লাভ করিয়াছেন? আমি বলিলাম, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আদেশ প্রদান করা হইয়াছে। মূসা (আ.) বলিলেন, আপনার উম্মত প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেরও পাবন্দী করিতে পারিবে না। আমি আপনার পূর্বেই সাধারণ মানুষের স্বাভাব সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করিয়াছি এবং বনী ইস্রাঈলগণকে অনেক পরীক্ষা করিয়াছি।  আপনি আবার পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়া আরও কম করার আবেদন জানান। হযরত (স.) বলেন, আমি মুসাকে বলিলাম, পরওয়ারদেগারের দরবারে অনেক বার আসা-যাওয়া করিয়াছি; এখন আবার যাইতে লজ্জা বোধ হয়, আর যাইব না বরং পাঁচ ওয়াক্তের উপরই সন্তুষ্ট রহিলাম এবং তাহা বরণ করিয়া নিলাম।  হযরত (স.) বলেন, অতঃপর যখন আমি ফিরিবার পথে অগ্রসর হইলাম তখন আল্লাহ তাআলার তরফ হইতে একটি ঘোষণা জারি করা হইল-(বান্দাদের প্রাপ্য সওয়াবের দিক দিয়া) “আমার নির্ধারিত সংখ্যা (পঞ্চাশ) বাকি রাখিলাম, (আমার পক্ষে আমার বাক্য অপরিবর্তিতই থাকিবে) অবশ্য কর্মক্ষেত্রে বান্দাদের পক্ষে সহজ ও কম করিয়া দিলাম।  (অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে পাঁচ ওয়াক্ত রহিল, কিন্তু সওয়াবের দিক দিয়া পাঁচই পঞ্চাশ পরিগণিত হইবে।) প্রতিটি নেক আমলে দশ ণ্ডণ সওয়াব দান করিব ।”

ইসলামী জিন্দেগী এর আরও খবর
সালাহ্ উদ্দিন ইবনে শিহাবের ৫টি নাত

সালাহ্ উদ্দিন ইবনে শিহাবের ৫টি নাত

আধুনিক কতিপয় কওমী সমাজ এবং মীলাদ বিরোধিতা : দেওবন্দের উত্তরাধিকার, নাকি লা-মাযহাবি প্রভাব?

আধুনিক কতিপয় কওমী সমাজ এবং মীলাদ বিরোধিতা : দেওবন্দের উত্তরাধিকার, নাকি লা-মাযহাবি প্রভাব?

কুলাউড়ায় ভূকশিমইল ইউনিয়ন তালামীযের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

কুলাউড়ায় ভূকশিমইল ইউনিয়ন তালামীযের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

কুলাউড়া উপজেলা তালামীযের ঈদ পুনর্মিলনী ও দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত

কুলাউড়া উপজেলা তালামীযের ঈদ পুনর্মিলনী ও দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত

<span style='color:red;font-size:16px;'>জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন</span>	 <br/> ৫০ বছর ধরে মসজিদে নববীতে কোরআন পড়ানো শিক্ষক আবদুল্লাহ হাজি মারা গেছেন

জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন
৫০ বছর ধরে মসজিদে নববীতে কোরআন পড়ানো শিক্ষক আবদুল্লাহ হাজি মারা গেছেন

<span style='color:red;font-size:16px;'>রোজা রেখে হারাম কাজ থেকে বিরত থাকুন</span>	 <br/> পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে তমদ্দুন মজলিশের আহ্বান

রোজা রেখে হারাম কাজ থেকে বিরত থাকুন
পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে তমদ্দুন মজলিশের আহ্বান

সর্বশেষ সংবাদ
সালাহ্ উদ্দিন ইবনে শিহাবের ৫টি নাত
সালাহ্ উদ্দিন ইবনে শিহাবের ৫টি নাত
<span style='color:red;font-size:16px;'>জনগণের কথা শুনলেন নাসের রহমান</span>	 <br/> ‘ঋণ করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা, দুই বছরেও সামাল দেওয়া যাবে না’
জনগণের কথা শুনলেন নাসের রহমান
‘ঋণ করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা, দুই বছরেও সামাল দেওয়া যাবে না’
শ্রীমঙ্গলে আবাসিক এলাকায় শঙ্খিনী সাপ
শ্রীমঙ্গলে আবাসিক এলাকায় শঙ্খিনী সাপ
আধুনিক কতিপয় কওমী সমাজ এবং মীলাদ বিরোধিতা : দেওবন্দের উত্তরাধিকার, নাকি লা-মাযহাবি প্রভাব?
আধুনিক কতিপয় কওমী সমাজ এবং মীলাদ বিরোধিতা : দেওবন্দের উত্তরাধিকার, নাকি লা-মাযহাবি প্রভাব?
শ্রীমঙ্গলে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন, ভোগান্তির অবসান চান যাত্রীরা
শ্রীমঙ্গলে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন, ভোগান্তির অবসান চান যাত্রীরা
কালনী নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
কালনী নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
ভারতের উড়িষ্যায় জাহাজডুবি: নিখোঁজ সাতক্ষীরার মেরিন প্রকৌশলী, বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু
ভারতের উড়িষ্যায় জাহাজডুবি: নিখোঁজ সাতক্ষীরার মেরিন প্রকৌশলী, বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু
সুনামগঞ্জে অনুমোদনহীন ৪ স্লিপার কোচকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা
সুনামগঞ্জে অনুমোদনহীন ৪ স্লিপার কোচকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা
তিন বন্ধুর হাত ধরে মফস্বলে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’
তিন বন্ধুর হাত ধরে মফস্বলে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’
শ্রীমঙ্গলে যৌথ অভিযানে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ
শ্রীমঙ্গলে যৌথ অভিযানে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ
চলতি মাসেই চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের তফসিল: শ্রমমন্ত্রী
চলতি মাসেই চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের তফসিল: শ্রমমন্ত্রী
জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এম নাসের রহমান
জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এম নাসের রহমান
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: সাজুর মরদেহ দেশে, রেবতীর সৎকার ভারতে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: সাজুর মরদেহ দেশে, রেবতীর সৎকার ভারতে
সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে ৪৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে ৪৫০০ গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
কক্সবাজারে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নি’হ’ত
কক্সবাজারে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নি’হ’ত
জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ শেষে সেনাপ্রধানের কাছ থেকে সনদ নিলেন নাসের রহমান
জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ শেষে সেনাপ্রধানের কাছ থেকে সনদ নিলেন নাসের রহমান
শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট উল্টোলেজি বানর, উদ্ধার করে বন বিভাগে হস্তান্তর
শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট উল্টোলেজি বানর, উদ্ধার করে বন বিভাগে হস্তান্তর
মৌলভীবাজারে জামায়াতের ইউনিয়ন দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত
মৌলভীবাজারে জামায়াতের ইউনিয়ন দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত
টেন্ডার ছাড়াই দুটি কাঁঠালগাছ কর্তন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
টেন্ডার ছাড়াই দুটি কাঁঠালগাছ কর্তন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
হবিগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ২৬ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ২৬ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

© 2025 purbodeek.com

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: আলহাজ্ব মো: চন্দন মিয়া, সম্পাদক : মুজাহিদ আহমদ,
প্রকাশক : আলহাজ্ব হাফিজ সাব্বির আহমদ, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি : মাও. কামরুল ইসলাম,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মুহাম্মদ আজির উদ্দিন পাশা, সহযোগী সম্পাদক : সালাহ উদ্দিন ইবনে শিহাব,
সহকারি সম্পাদক: আখতার হোসাইন জাহেদ, মো. রেদওয়ানুল ইসলাম

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ২৭০, ওয়াছির প্লাজা, (দ্বিতীয় তলা), চৌমুহনা, এম সাইফুর রহমান রোড, মৌলভীবাজার-৩২০০।
মোবাইল: ০১৭১২৭১৬২৪৪, ০১৭১৯৮৪১৮৬৪, ০১৭০৬৬২৪৬৩২,
ই-মেইল: purbodik11@gmail.com

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh

Go to top