কুশিয়ারা নদীতে নৌকা বাইচ, বৈঠার ছন্দে উৎসবের ঢেউ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:২৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক::
কুশিয়ারা নদীর বুকে ঢাকের বাজনা, বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের হুই হুল্লোড়ে মুখরিত হলো মৌলভীবাজার। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার চিরন্তন ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। ঐতিহ্যের টানে নদীর দুই তীরে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। নদীমাতৃক বাংলার অদম্য প্রাণশক্তি আর গ্রামীণ আনন্দের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে এ আয়োজনে। শুধু মৌলভীবাজার নয়, আশপাশের জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন কুশিয়ারার তীরে।
রঙিন সাজে সজ্জিত নৌকা, হাতে বৈঠা আর ঢাক-ঢোলের তালে তালে গাওয়া গান, সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে ভরে ওঠে নদী। প্রতিটি নৌকায় ১৮-২০ জন বৈঠাবাজ একই ছন্দে বৈঠা চালিয়ে এগিয়ে চলে। তাদের উৎসাহ দিতে নদীর দুই তীরে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকেরা করতালি, স্লোগান আর উল্লাসে মাতিয়ে রাখেন পুরো পরিবেশ।প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দলগুলো অংশ নেয়। চ্যাম্পিয়ান হয় নবীগঞ্জ উপজেলার মরহমের তরী।
দিনভর ঢাক-ঢোল, বৈঠার শব্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল কুশিয়ারা নদী। স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন, গ্রাম বাংলার এই আয়োজন নিয়মিত হলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে থাকবে নৌকা বাইচের গৌরবময় ঐতিহ্য।
অংশগ্রহণকারী শহীদুল্লাহ বলেন, নদীমাতৃক এ দেশে নৌকা বাইচ একসময় ছিল গ্রামবাংলার প্রধান বিনোদন। এখন তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন।
দর্শনার্থী ইঞ্জিনিয়ার মহসিন আলী বলেন, আমরা ছোটবেলায় গ্রামে নৌকা বাইচ দেখতাম, আজ আবার কুশিয়ারায় সেই পুরনো দিনের আবহ ফিরে পেলাম। হাজারো মানুষ একসাথে এই উৎসব উপভোগ করছে, সত্যিই অভাবনীয় দৃশ্য। নৌকা বাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। আমি চাই, এ ধরনের আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিত হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম নদী ও নৌকার এই ইতিহাস জানতে পারে।”
আয়োজনের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন গ্রামীণ জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনে। আমরা চাই প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই প্রতিযোগিতা হোক। আমরা সহযোগিতা করবো।






