রামুতে স্ত্রী কর্তৃক স্বামী হত্যা মামলার পলাতক আসামি সিলেট থেকে গ্রেফতার
প্রকাশিত হয়েছে : ৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
ছবি: পূর্বদিক
সিলেট প্রতিনিধি: কক্সবাজারের রামু উপজেলায় স্ত্রী কর্তৃক স্বামী হত্যার আলোচিত মামলার এক পলাতক আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-৯ (সিলেট) ও র্যাব-১৫ (কক্সবাজার)-এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, নিহত ছৈয়দ হোসেন কক্সবাজার জেলার রামু থানার কালারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মামলার ১ নম্বর আসামি আনোয়ারা বেগম নিহতের স্ত্রী এবং ২ নম্বর আসামি আকতার কামাল নিহতের বোনের স্বামী।
তদন্তে জানা যায়, ছৈয়দ হোসেন ২০১৯ সাল থেকে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আকতার কামাল পরিবারের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিহতের বাড়িতে পৌঁছে দিতেন। এভাবে নিয়মিত যাতায়াতের একপর্যায়ে নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন ছৈয়দ হোসেন। এরপর তিনি আকতার কামালকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাদের মধ্যে গোপনে সম্পর্ক চলতে থাকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও মনোমালিন্য চলছিল।
গত ২৫ জুন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে নিহতের মেয়ে তার চাচাকে ফোন করে বাবার মৃত্যুর খবর জানায়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছৈয়দ হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ দেখতে পান। নিহতের ভাই অভিযোগ করেন, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, আকতার কামাল এবং অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা ২৪ জুন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ২৫ জুন ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় ছৈয়দ হোসেনকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে রামু থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি (সিলেট) এবং র্যাব-১৫, সদর কোম্পানি (কক্সবাজার)-এর একটি যৌথ দল সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী থানার শাহী ঈদগাহ মাঠ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর পলাতক আসামি কক্সবাজার জেলার রামু থানার আকতার কামালকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পূর্বদিক/এসএ






