শ্রীমঙ্গলে আবাসিক এলাকায় শঙ্খিনী সাপ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আবাসিক এলাকার বাসা থেকে অত্যন্ত বিষধর শঙ্খিনী (শাঁখামুটি) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পূর্বাসা আবাসিক এলাকার গোপাল গোস্বামীর বাসা থেকে সাপটি উদ্ধার করেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। পরে উদ্ধার করা সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গোপাল গোস্বামীর বাসায় হঠাৎ একটি সাপ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সাপটি দেখে পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি আশপাশের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে নাহিদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা সতর্কতার সঙ্গে সাপটির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হন, এটি শঙ্খিনী বা শাঁখামুটি (Banded Krait) প্রজাতির সাপ।
বন্যপ্রাণী কর্মীরা জানান, শঙ্খিনী বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ। সাধারণত এরা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে এবং নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। তবে ভুলবশত লোকালয় বা বসতবাড়িতে ঢুকে পড়লে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। এ ধরনের সাপ দেখলে না মেরে নিরাপদ দূরত্বে থেকে সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। উদ্ধার অভিযান চলাকালে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও সতর্কতার কারণে কাউকে সাপটির কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়নি।
উদ্ধারের পর শঙ্খিনী সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। বন বিভাগের মাধ্যমে সাপটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা বলেন, শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় বনাঞ্চল, চা-বাগান ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক আবাসস্থল থাকায় মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এসব প্রাণীকে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। এতে যেমন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও আবাসিক এলাকায় বিষধর সাপের উপস্থিতিতে আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, সাপটি দ্রুত উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়ানো গেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পূর্বদিক/এসএ





