মৌলভীবাজারে মসজিদের আড়ালে সালাফি মার্কাজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, এলাকাবাসীর আপত্তি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:০৬ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার::
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের কেশবচর গ্রামে সালাফি মতাদর্শের একটি এডুকেশন সেন্টার কাম মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে এটি উদ্বোধন করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সালাফি মতাদর্শের লোকেরা ‘মসজিদ ভাঙার‘ অভিযোগ এনে অপপ্রচার করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ নিয়ে এই প্রতিবেদক সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন ও বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলেন।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে কেশবচর ও তৎসংলগ্ন গোড়ারাই বাজারে একাধিক লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেশবচরের গ্রামের জবরুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করেন। সেখানেই তিনি আহলে হাদিস নামের লা-মাজহাবি মতাদর্শে আকৃষ্ট হোন। প্রায় বছর খানেক আগে তিনি তার নিজগ্রাম কেশবচরে বাচ্চাদের ইসলামি শিক্ষাদানের জন্য একটি মসজিদ কাম মক্তব প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। কিন্তু মক্তবের আড়ালে জবরুল মিয়া মূলতঃ সালাফি মতবাদ প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিষয়টি তখনও এলাকার মানুষ জানতেন না। কিন্তু গত ৪/৫ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি পোস্টার এলাকার মানুষের নজর কাড়ে। পোস্টারে লিখা ছিল ৬ ডিসেম্বর ‘সালাম ইসলামিক এডুকেশন সেন্টার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ওয়াজ মাহফিল’। পোস্টারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সালাফি শায়েখ ও ডক্টরদের নাম ছাপিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করা হয়, তাতে স্থানীয় আলেম-উলামা কিংবা এলাকার বিশিষ্ট কোন ব্যক্তিকেই দাওয়াত করা হয়নি। এই পোস্টার প্রচারের পরপরই স্থানীয় সুন্নী, কওমি ও জামায়াত ঘরানার লোকজন আপত্তি জানান। কিন্তু জবরুল মিয়া তাতে কর্ণপাত করেন নি। পরে উদ্বোধনের দিন (৬ ডিসেম্বর) এলাকার মুরব্বিদের আপত্তির মুখে পুলিশ প্রশাসন উদ্বোধন ও ওয়াজ মাহফিল স্থগিত করে।
এলাকার মানুষের অভিযোগ- জবরুল মিয়া মক্তবের কথা বলে সালাফি মিশন বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যন্ত এ গ্রামকে বেছে নিয়েছেন যা খুবই উদ্বেগজনক। এই এলাকাসহ আশপাশের সবাই মাজহাবপন্থী। এখানে মক্তব-মসজিদের নামে সালাফি মতবাদ প্রচার করলে এলাকায় ফিতনা তৈরি হবে।
এলাকার যুবক হাবিবুর রহমান ও নাহিদ হাসান জানান, গ্রামের পঞ্চায়েত ও এলাকার বিশেষ ব্যক্তিবর্গের আপত্তি ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়। কিন্তু আহলে হাদিসের অনুসারিরা ফেইসবুকে স্থানীয় এলাকাবাসী মসজিদে হামলা করেছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা এর নিন্দা জানান।
এ ব্যাপারে কেশবচর গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি তালেব উদ্দিন জানান, আমাদের গ্রামসহ আশপাশের সবাই সুন্নী ও কওমি মতাদর্শের লোকের বসবাস। সবাই হানাফি মাজহাবের। জবরুল মিয়া এখানে সালাফি মসজিদ নির্মাণের কথা শুনে গ্রামের পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ৭ জন মিলে তার সাথে দেখা করি। আমরা তাকে বলি মসজিদ আল্লাহর ঘর। কিন্তু যেহেতু সবাই এখানে হানাফি মাজহাবের সেহেতু হানাফি মাজহাবের একজন ইমাম রাখলে ভালো হবে। জবরুল মিয়া আমাদের কথা দেন যে তিনি পরে এ ব্যাপারে আমাদের সাথে কথা বলবেন। কিন্তু আমাদের সাথে কোন ধরনের কথাবার্তা ছাড়াই আহলে হাদিসের আলেমদের দাওয়াত করে ফেইসবুকে ওয়াজের পোস্টার ছাড়েন। যেখানে এলাকার কোন আলেম বা মুরব্বি কাউকেই দাওয়াত করা হয়নি। ফলে উদ্বোধনের দিন (৬ ডিসেম্বর) এলাকার মুরব্বি ও যুবকরা প্রোগ্রাম না করতে আপত্তি জানান। এই খবর পেয়ে শেরপুর ফাঁড়ি ও থানা পুলিশ ও ঘটনাস্থলে আসে। বিষয়টি মিমাংশা না হওয়া পর্যন্ত সেন্টারটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে বিষয়টি প্রশাসনের দায়িত্বে আছে। ইলেকশনের পরে তা শালিসে দেখা হবে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ‘সালাম ইসলামিক এডুকেশন সেন্টার’ এর প্রতিষ্ঠাতা জবরুল মিয়ার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনটিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখায়।






