দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও, রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার মাধ্যম নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির এক অনন্য ভাষা। সেই দৌড়ের ছন্দে এবার এক হলো দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’ এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে জেলার আব্দুর রশিদ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় এ হাফ ম্যারাথন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। কেউ ছুটেছেন নিজের আগের রেকর্ড ভাঙার প্রত্যয়ে, কেউ সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে। আবার অনেকের কাছে এই দৌড় ছিল বিভিন্ন জেলার মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি উপলক্ষ।
ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এ ম্যারাথনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল মেসার্স গার্ডেনিয়া।
ম্যারাথনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নারী-পুরুষ ও তরুণ দৌড়বিদরা অংশ নেন। ঢাকা থেকে আসা কিশোরী দৌড়বিদ জিন্নাথ পারভীন বলেন, “এই ম্যারাথন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। এটি এক জেলার সঙ্গে আরেক জেলার এবং একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ তৈরি করে। সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
এবারের হাফ ম্যারাথন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশেষ এক আবেগ। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩তম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি।
আয়োজকদের ভাষ্য, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়েছেন। পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এবারের আয়োজন তাকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
তরুণ দৌড়বিদ এলিন খান বলেন, “একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটারই নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হয়, পা ক্লান্ত হয়ে আসে, কিন্তু থেমে যাওয়া যায় না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়, নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করাও গন্তব্য। সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন আমরা সবাই একসঙ্গে ছুটছি।”
তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজন শুধু দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অতিথি ও দৌড়বিদদের সামনে তুলে ধরা হয় জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ম্যারাথনের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হয়।
আয়োজকরা জানান, একদিকে মানুষের মধ্যে শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা, অন্যদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ঠাকুরগাঁও রানার্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সবার সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, দৌড়ের মাধ্যমে শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির সম্পর্কও গড়ে ওঠে।
আয়োজকদের মতে, একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান, তখন সেখানে শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না, ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বার্তাও। সেই অর্থে ঠাকুরগাঁওয়ের হাফ ম্যারাথন হয়ে উঠেছে বিভিন্ন জেলার মানুষের মিলনমেলার একটি উপলক্ষ।
দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, আয়োজক কমিটির সদস্য, দৌড়বিদ ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বদিক/এসএ





