শ্রীমঙ্গলে কিশোরী অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩
প্রকাশিত হয়েছে : 30 September 2026, 8:47 pm

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের পর আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৩১), চানপুর এলাকার তাউল মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং রিটি এলাকার মো. মমিনুল ইসলামের ছেলে আল আমিন ইসলাম (২০)। জুয়েল বর্তমানে মিশন রোড এবং আল আমিন সোনার বাংলা রোড এলাকায় বসবাস করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোডে গৃহপরিচারিকার কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। পথে আসামিরা একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে তার পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে তাকে শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকায় আসামি দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা পর্যন্ত আসামিরা পর্যায়ক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খবর পেয়ে রেলস্টেশন থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় মামলা করতে বিলম্ব হয়। পরে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(৩) ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ৪১/২৭৭।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আবদুর রাজ্জাককে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পূর্বদিক/এসএ





