২৩০ পরিবারকে নগদ সহায়তা, ঝুঁকিপূর্ণ পান পুঞ্জিতে নির্মাণ হচ্ছে সিঁড়ি
প্রকাশিত হয়েছে : 1 October 2026, 10:48 am

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন পূরণ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জরুরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস (CRS) ও কারিতাস বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নেওয়া এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস (CRS) এবং বাস্তবায়ন করেছে কারিতাস বাংলাদেশ।
প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩০ জনকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী অর্থ ব্যয়ের সুযোগ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগের পর পরিবারের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং জীবিকা পুনরায় সচল করার ক্ষেত্রে এ নগদ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শর্তহীন নগদ সহায়তার অন্যতম সুবিধা হলো, উপকারভোগীরা নিজেরাই তাঁদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণ করে অর্থ ব্যয় করতে পারেন।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি পর্যায়ে ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে কুলাউড়া ও বড়লেখার ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পান পুঞ্জিতে সিঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচল সহজ ও নিরাপদ করার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয়ভাবে নির্মিত এসব সিঁড়ি ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় মানুষের নিরাপদ চলাচলে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবেও ব্যবহৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সিঁড়ি নির্মাণের ফলে আদিবাসী স্কুলগামী শিক্ষার্থী, পান বহনকারী শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে দুর্গম পুঞ্জিগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য শুধু দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো নয়; বরং তাঁদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
একদিকে নগদ সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। অন্যদিকে কমিউনিটি পর্যায়ে সিঁড়ি নির্মাণের মতো উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনরুদ্ধার এবং কমিউনিটি পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস—দুই বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় পান পুঞ্জির বাসিন্দারা বলেন, সিঁড়ি নির্মাণের আগে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পুঞ্জিতে ওঠানামা করতে তাঁদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন সিঁড়ি নির্মাণ হওয়ায় ঝুঁকি ছাড়াই সহজে পুঞ্জিতে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
তাঁরা বলেন, ভবিষ্যতে অন্যান্য পান পুঞ্জিতেও এ ধরনের সিঁড়ি নির্মাণ করা হলে সেখানকার বাসিন্দারাও নিরাপদ ও সহজে চলাচলের সুযোগ পাবেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পান পুঞ্জিবাসীর পক্ষ থেকে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস (CRS) ও কারিতাস বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।
পূর্বদিক/এসএ





