সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: তদন্তে মূলহোতা হিসেবে সুমনের নাম
প্রকাশিত হয়েছে : 1 October 2026, 9:38 pm

যুবদল কর্মী শাহরিয়ার সুমন
খুলনা প্রতিনিধি: সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকারের অভিযোগের তদন্ত শেষ করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কথিত যুবদল কর্মী শাহরিয়ার সুমনকে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) গত ৩০ আগস্ট শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলামকে প্রধান এবং চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন, মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মো. জাহাঙ্গীর আলম।
তদন্ত কমিটি প্রায় তিন সপ্তাহ তদন্ত শেষে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের মূলহোতা হিসেবে শাহরিয়ার সুমনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা, সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মোংলা থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার অন্যতম আসামি শাহরিয়ার সুমনকে ওই রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সুমন মোংলা উপজেলার গোরা বুড়বুড়িয়া গ্রামের সেকেন্দার হাওলাদারের ছেলে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট দুপুরে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোরা বুড়বুড়িয়া এলাকায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটি খাল থেকে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে ফেরার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও একটি নৌকাসহ দুই জেলেকে আটক করেন। পরে প্রভাবশালী একটি মহলের হুমকি-ধমকির মুখে আটক দুই জেলেকে মাছ ও নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি পরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, শাহরিয়ার সুমন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সুন্দরবনে জেলেদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার নিজস্ব একটি জেলে গ্রুপ রয়েছে। ওই গ্রুপের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, সুমনের প্রভাবের কারণে সাধারণ জেলেরা সুন্দরবনে স্বাভাবিকভাবে মাছ শিকার করতে পারছেন না। সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সুমন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকারের মূলহোতা হিসেবে শাহরিয়ার সুমনের নাম পাওয়া গেছে। সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ কয়েকটি সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে।’
তবে শাহরিয়ার সুমনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পূর্বদিক/এসএ






