টঙ্গীতে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
প্রকাশিত হয়েছে : 25 October 2026, 4:54 pm

ছবি: পূর্বদিক
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে গাজীপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার এ আদেশ দেন। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে বাড়িতে গিয়ে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়।
পরদিন ২১ অক্টোবর সকালে শিশুটির বাবা জালাল উদ্দিন রুমী মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এদিকে, শিশুটির অভিভাবকের অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





