বাহুবলে অপরাধের বিস্তার, ঝুঁকিতে সাংবাদিকতা
প্রকাশিত হয়েছে : 26 October 2026, 5:17 pm

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় মাদক, জুয়া, চুরি-ডাকাতি, অবৈধ বালু ও গাছ পাচার এবং চোরাচালানের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব অপরাধে জননিরাপত্তা, সরকারি রাজস্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অপরাধ ও পাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি উপজেলার রশিদপুর ও সাতকাপন ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতির প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও যুবসমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মাদক। এতে তরুণ সমাজের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে। পাশাপাশি রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ রয়েছে। এসব আসর থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। বিভিন্ন ইউনিয়নে গরু চুরির ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের অনেকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
উপজেলার হরিতলা এলাকায় সরকারি মহাল থেকে সিলিকা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এক্সকাভেটর দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করে শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টরে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ভারী যানবাহনের চাপে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি জমি থেকে গাছ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাহুবলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্তপথে আসা অবৈধ মাদক, শাড়ি, ফুচকা, চিনি, জিরাসহ বিভিন্ন মসলা ও প্রসাধনসামগ্রী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। যদিও র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ ও বালু পাচারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরপরই সাংবাদিকদের নাম-পরিচয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যায়। এতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্যদাতাদের গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাহুবল মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি সমুজ আলী রানা বলেন, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে বক্তব্য চাওয়ার পরপরই অপরাধীদের কাছে সাংবাদিকদের নাম-পরিচয় পৌঁছে যাওয়ায় সাংবাদিকতা পেশা হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
এ অবস্থায় মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ, অবৈধ বালু ও গাছ পাচার রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।





