পূর্ণিমার আলোয় মহারাস, উৎসবের আমেজে মণিপুরি পাড়া
প্রকাশিত হয়েছে : ৩ নভেম্বর ২০২৫, ২:১২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক::
পাহাড়ঘেরা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নেমেছে উৎসবের আমেজ। রাসপূর্ণিমা ঘনিয়ে আসতেই দিনরাত চলছে মহারাস উৎসবের প্রস্তুতি। শতবর্ষের ঐতিহ্য আর কৃষ্ণভক্তির আবেশে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার মণিপুরি অধ্যুষিত গ্রামগুলো।
প্রতি বছর রাসপূর্ণিমার রাতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলা। এবারও কমলগঞ্জে দুটি স্থানে হবে এই আয়োজন— মাধবপুরের জোড়া মণ্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরি) সম্প্রদায়ের ১৮৩তম এবং আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মীতৈ সম্প্রদায়ের ৪০তম মহারাস উৎসব।
প্রায় এক মাস ধরে চলছে রাসনৃত্যের মহড়া। নৃত্যের প্রতিটি ধাপ, হাতের ভঙ্গি আর মুখের অভিব্যক্তি নিখুঁতভাবে রপ্ত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মণিপুরি তরুণ–তরুণীরা। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে প্রশিক্ষণ। রাসনৃত্যে থাকে শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও গোপীগণের চরিত্র; সারারাত ধরে পরিবেশিত হয় ভক্তিমূলক গান, নৃত্য ও নাট্য উপস্থাপনা।
মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের সভাপতি যোগেশ্বর চ্যাটাজি বলেন, “মহারাস শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভক্তির প্রতীক। পূর্ণিমার আলোয় মণিপুরি পাড়া ভরে উঠবে আনন্দে।”
উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৮৪২ সালে প্রথমবারের মতো কমলগঞ্জের মাধবপুরে মহারাস উৎসবের সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই এ দিনে দুই লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।
পূর্ণিমার আলোয় যখন বাজবে মৃদঙ্গের তান, তখন কৃষ্ণভক্তির সুরে ভেসে যাবে কমলগঞ্জের মণিপুরি পাড়া—ভক্তি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির অনন্য মিলনমেলা হয়ে উঠবে মহারাস উৎসব।






