সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চলছে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা
প্রকাশিত হয়েছে : ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
আবুল হায়দার তরিকঃ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনো চলছে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা। গত ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে সরকারি কর্মচারীদের গণভোটে হ্যাঁ অথবা না ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবং এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারীরা কোন পক্ষে অবস্থান করলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য ৫ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা প্রদানের ৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও আজ ২ ফেব্রুয়ারী সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দেখা যাচ্ছে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা।
কুলাউড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়, সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় (জনস্বাস্থ্য), উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার, কমলগঞ্জের দেওরা চড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, পৃথিমপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা ব্যানার টাঙানো দেখা যায়।
এদিকে গত কাল পর্যন্ত সরকারি তথ্য সেবা (GovtInfo) থেকে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ করে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ছড়াকার আব্দুল হামিদ মাহবুব বলেন গত ৪ দিন পূর্বে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরকে যেকোনো পক্ষ অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা চলছে। এমনকি গভমেন্ট ইনফো থেকেও গতকাল পর্যন্ত আমার গ্রামীনফোন মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে “গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ বলুন” ম্যাসেজ দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ সকল কার্যক্রমের ফলে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেওরাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন তাদেরকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসময় এর লিখিত কোন নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন এবং কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
এসম্পর্কে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মোঃ সফিউল আলম বলেন তাদের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং তিনি এখনই কথা বলবেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৯ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেওয়া চিঠিতে ইসি বলেছেন, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পূর্বদিক/ডেস্ক/টিকে





