মৌলভীবাজারে জমি বিরোধে ভাই হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ৫
প্রকাশিত হয়েছে : ১ জুলাই ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাইকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। এই বিরোধের জেরে আব্দুল মজিদ তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কয়েকজনকে নিয়োগ দেন। ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে আব্দুল মতিন আদালতে একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাবেন, বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন অভিযুক্তরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মতিন (৫৮) আদালতে সাক্ষ্য দিতে বাড়ি থেকে রওনা হন। এ সময় পরিকল্পনাকারীদের একটি দল তাকে অনুসরণ করে। পরে নির্জন স্থানে সুযোগ বুঝে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশসংলগ্ন ঢালের পাকা সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সন্ধ্যা পর্যন্ত আব্দুল মতিন বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনটি বন্ধ পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খবর পান, তাদের বাড়ির পূর্ব পাশে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশসংলগ্ন ঢালের পাকা সড়কে হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট পেঁচানো অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি তার স্বামীর বলে শনাক্ত করেন। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে ২৮ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামসহ একটি বিশেষ তদন্ত দল ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ৩০ জুন পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বদিক/এসএ





