পাইনকা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ, জীবনমান উন্নয়ন ও গেজেটভুক্তির দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ১ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ

দুলাল পাইনকা। ছবি: পূর্বদিক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাদেশে চা-চাষের সূচনা হয়। ১৮৫৪ সালে অবিভক্ত ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বহু জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে চা-শ্রমিক হিসেবে এ অঞ্চলে আনা হয়। সেই সময় আগত জনগোষ্ঠীর মধ্যে কবীরপন্থি সম্প্রদায়ের পাইনকা জাতিগোষ্ঠী অন্যতম। প্রায় ১৭০ বছর ধরে তারা দেশের বিভিন্ন চা-বাগানে শ্রম দিয়ে আসছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে সংখ্যায় কম হওয়ায় এবং সামাজিকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে থাকায় এ জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মৌলিক অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে অনেকাংশেই পিছিয়ে রয়েছে। পাইনকা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সরকারি গেজেটভুক্তির দাবিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাইনকা সমাজের সাধারণ সম্পাদক দুলাল পাইনকা।
দুলাল পাইনকা বলেন, আজ থেকে প্রায় ১৫৫ বছর আগে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বর্তমান ছত্তিশগড় অঞ্চলের রায়পুর ও বিলাসপুর এলাকা থেকে পাইনকা জনগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন চা-বাগানে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলিত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন এবং এখনো নানা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তিনি বলেন, পাইনকা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। কিন্তু যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সংরক্ষণের অভাবে সেই সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাদের ঐতিহ্য ও পরিচয় টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পাইনকা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
দুলাল পাইনকা বলেন, পাইনকা সমাজের অধিকাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান এখনো অত্যন্ত নিম্ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে রয়েছেন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পাইনকা জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে তারা মাথা উঁচু করে সমাজে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।
এ ছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত পাইনকা জনগোষ্ঠীকে সরকারি গেজেটভুক্ত করার দাবি জানান পাইনকা সমাজের এই নেতা। তাদের মতে, সরকারিভাবে স্বীকৃতি পেলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পূর্বদিক/এসএ





