সুনামগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে জখম, মামলা হলেও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
প্রকাশিত হয়েছে : 5 September 2026, 8:43 pm

ছবি: পূর্বদিক
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মঞ্জু কুমার দাস (৩৫) নামে এক যুবককে সংঘবদ্ধভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পাসপোর্ট অফিসের সামনের সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মঞ্জু কুমার দাস বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মঞ্জু কুমার দাসের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এ সময় ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। প্রাণ বাঁচাতে মঞ্জু চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও জখমের মাত্রা বেশি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আহত মঞ্জু কুমার দাস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নতুন পৈন্দা গ্রামের শশী মোহন দাসের ছেলে। এ ঘটনায় মঞ্জুর ভাই কৃপেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার বড়পাড়া লম্বাহাটির বাসিন্দা মৃত গুলফর আলীর ছেলে তাজন মিয়াকে (৪০) ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া ফখর উদ্দিন (৩৫), তোফাজ্জল হক (৩১), সমীর চন্দ্র দাস (৪০), ফয়জুল হক (৫৪), রবিউল হক জিলন (১৯), নুরুল হক (৫৮), এবাদুল হক মিলন (২১) ও রেজাউল হক মান্না (২০)কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামি তোফাজ্জল হক ও সমীর চন্দ্র দাস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, পাসপোর্ট অফিসের সামনের হামলার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তোফাজ্জল হক বলেন, অভিযোগকারীর সঙ্গে তার আপন চাচাতো ভাই ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমীর চন্দ্র দাসের পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। সমীরের বাবা ফয়জুল হক পুলিশের কাছে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সমীর চন্দ্র দাস বলেন, ধানের মিলে ধান রাখা ও ভাঙানোকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত। একসময় তিনি নিয়মিত ওই মিলে ধান রাখতেন। পরে হিসাবে গড়মিল পাওয়ায় সেখানে ধান রাখা বন্ধ করে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমীর বলেন, তাদের কারণে তিনি বাড়িঘর ছেড়ে দিয়েছেন। তবে মঞ্জুর ওপর হামলার সঙ্গে তার কোনো ধরনের যোগসাজশ নেই। হামলার ঘটনা শুনেছেন, কিন্তু কারা হামলা করেছে তা তিনি জানেন না।
মামলার বাদী কৃপেশ চন্দ্র দাস বলেন, মামলা রেকর্ড হলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। বিষয়টি তিনি আগেই থানাকে জানিয়েছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কোনো প্রতিকার পাননি।
তিনি বলেন, সর্বশেষ তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই অর্জুন কুমার রায় বলেন, “থানায় মামলা রুজু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পূর্বদিক/এসএ





