শ্রীমঙ্গলে দুই রাতে ৮ মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী
প্রকাশিত হয়েছে : 6 September 2026, 11:00 pm

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দুই রাতে আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের ভীমসী, বাবুর বাজার, শাসন ও ভুনবীর গ্রামের বিভিন্ন মন্দির ও ঠাকুরঘরে এসব চুরি হয়। চোরেরা পিতলের মূর্তি, পিতল ও কাঁসার বাসনপত্র এবং প্রণামীর বাক্সে রাখা নগদ টাকা নিয়ে গেছে। পরপর এসব চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভুনবীর ইউনিয়নের ভীমসী বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির মন্দিরে চুরি হয়। ওই রাতে একটি সার্বজনীন মন্দির ও তিনটি পারিবারিক ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনা ঘটে।
এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে একই ইউনিয়নের শাসন গ্রামের শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, শ্রী মানবেন্দ্র ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘর, নারায়ণ ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘর ও সুধা ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘরে চুরি হয়। এর মধ্যে একটি সার্বজনীন মন্দির ও তিনটি পারিবারিক ঠাকুরঘর রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
চোরেরা মন্দির ও ঠাকুরঘরে ঢুকে প্রণামীর বাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া পূজায় ব্যবহৃত পিতল ও কাঁসার বাসনপত্র এবং পিতলের তৈরি মূর্তিও চুরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভুনবীর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোররাতের কোনো একসময় এসব চুরির ঘটনা ঘটে। পারিবারিক ও সার্বজনীন মিলিয়ে দুই রাতে মোট আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরি হয়েছে।
বিশ্বজিৎ দেব বলেন, শুক্রবার সকালে কয়েকটি সার্বজনীন ও পারিবারিক মন্দিরের লোকজন তাঁকে চুরির বিষয়টি জানান। পরে তিনি বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি আরও বলেন, মন্দির ও ঠাকুরঘরগুলো থেকে নগদ টাকা, কাঁসা ও তামার বাসনপত্র এবং পিতলের মূর্তিসহ প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। তাঁর ধারণা, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এসব চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
পাত্রকুল শ্রীশ্রী শিববাড়ি পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ জীবন দেব বলেন, চুরির ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি প্রশমনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ভূমিকা নজরে আসছে না। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জনমনে যাতে আতঙ্ক আরও না ছড়ায়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত শুক্রবার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আজ আবার ঘটনাস্থলে যাওয়া হচ্ছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে চুরির ঘটনায় এখনো মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
পূর্বদিক/এসএ





