ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘাত নয়, সহিষ্ণুতার রাজনীতি চান রাষ্ট্রপতি
প্রকাশিত হয়েছে : 6 September 2026, 11:05 pm

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পূর্বদিক
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষ নয়, শান্তি ও রাজনৈতিক সহিষ্ণতার পরিবেশ চান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল নিজেদের রাজনীতি ও মতবাদ প্রচার করবে, তবে কোনোভাবেই সংঘাতে জড়ানো যাবে না।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে এসে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ভূল্লী ও রুহিয়াকে উপজেলা করার দাবিগুলো ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামীকাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। মেডিকেল কলেজে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর চালু ও ভবিষ্যতে সচল রাখতে হলে জেলায় শিল্প-কারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। এ জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, সরকারে আসার পর অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে এসে সম্ভাবনা ও শিল্পায়নের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। চীন থেকেও বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে বিশেষজ্ঞ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা শান্তি চাই। সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না।’
তিনি আরও বলেন, অতীতে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা হয়েছে। অনেক মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ‘আমরা আর এমন মৃত্যু ও রক্তপাত দেখতে চাই না। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চাই,’ বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে সমঝোতার রাজনীতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা।
মঞ্চে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই রাজনীতি করতে হবে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।
নাগরিক সংবর্ধনার জন্য ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই জেলাকে কখনো ভুলব না। আমার অন্তরে ঠাকুরগাঁও জেলা। আমি যে পদেই থাকি, যেখানেই থাকি, ঠাকুরগাঁও ও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক গণসংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু মো. খায়রুল কবির।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবদুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীন প্রধানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে তাঁর বক্তব্য ও স্থানীয় ভাষায় ঠাকুরগাঁওবাসীর সঙ্গে কথোপকথন ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পূর্বদিক/এসএ





