সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের প্রতিবাদে আব্দুল কাইয়ুম রুমনের বক্তব্য
প্রকাশিত হয়েছে : 25 October 2026, 3:41 pm
সংবাদদাতা :
মৌলভীবাজার শহরের সৈয়দ সিকন্দর আলী রোডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম রুমন তাঁর বিরুদ্ধে গত ২৩ অক্টোবর কয়েকজন ব্যক্তির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একটি ভিসা জালিয়াতি চক্রের প্রতারণায় প্রায় ৪ কোটি টাকা হারিয়ে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আতিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ টাকা পাওনা ও পরিশোধ না করার অভিযোগ অস্বীকার করে রুমন জানান, সিটি ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব থেকে বিভিন্ন তারিখে আতিকুল ইসলামের ইস্টার্ন ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার ব্যক্তিগত হিসাবে মোট ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৬ মে ও ৭ জুন পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের বিভিন্ন সময়ের লেনদেনসহ এসব অর্থ পরিশোধের ব্যাংক স্টেটমেন্টের অনুলিপি সংবাদকর্মীদের কাছে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
এমডি জয়নুল ইসলামের ২১ লাখ টাকা পাওনার অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমন বলেন, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে তাঁর পাওনা ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে জয়নুল ইসলামের উত্তরা ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার হিসাবে ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, জুয়েনা আক্তারের ২৯ লাখ টাকা পাওনার দাবির বিষয়ে রুমনের বক্তব্য, জুয়েনার স্বামী আব্দুল আহাদের ব্যাংক এশিয়ার হিসাব এবং সিটি ব্যাংকের হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
কামরান আহমেদ ও লিপি বেগমের প্রসঙ্গে রুমন জানান, তাঁদের দায়ের করা চেকসংক্রান্ত মামলা হবিগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতের নজরে বিষয়টি আনার উদ্যোগ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাবুল মিয়া নামের যে ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন রুমন।
নিজের আর্থিক সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে রুমন বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে জাল কাগজপত্র ব্যবহারকারী একটি ভিসা জালিয়াতি চক্র তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাঁর দাবি, বড়কাপনের সানি নামের এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যস্থতা এবং সালিশের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া তাঁর দায়ের করা প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত এক আসামি বর্তমানে অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন, যার কাছে তাঁর প্রায় ২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
রুমন বলেন, পাওনাদারদের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য পৈতৃক জমিজমা বিক্রি ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি পালিয়ে যাননি বা আত্মগোপনে নেই; বরং প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
রুমনের আরও দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনকারী আতিকুল ইসলাম, এমডি জয়নুল ইসলাম, জুয়েনা বেগম, কামরান আহমদ ও লিপি বেগম—এই পাঁচজনই তাঁর দায়ের করা প্রতারণা মামলার সাক্ষী। তাঁদের বিরুদ্ধে তাঁর ও পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি আইনজীবীর পরামর্শে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রুমন বলেন, একপক্ষীয় সংবাদ প্রচার না করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং সত্য উদ্ঘাটন ও সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে হবে।





