খাগড়াছড়িতে এলজিইডির ১৮৯ পদের ১২৮টিই শূন্য
প্রকাশিত হয়েছে : 25 September 2026, 4:31 pm

ছবি: পূর্বদিক
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ১৮৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১২৮টিই শূন্য। বিশেষ করে প্রকৌশলী ও কারিগরি পদগুলোতে জনবল সংকট থাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের ওপর বাড়ছে দায়িত্বের চাপ। একই সঙ্গে সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল সংকটে ব্যাহত উন্নয়নকাজ, বাড়ছে তদারকির চাপ
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, জেলার নয়টি উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলীর ৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন পাঁচজন। দীঘিনালায় একজনকে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। সবচেয়ে বেশি সংকট উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী পদে। নয়টি উপজেলায় এ পদের কোনো কর্মকর্তাই বর্তমানে কর্মরত নেই।
উপসহকারী প্রকৌশলী পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। ২৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও রামগড়ে একজন করে উপসহকারী প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে জেলার অধিকাংশ উপজেলায় মাঠপর্যায়ের প্রকৌশল ও কারিগরি তদারকি সীমিতসংখ্যক জনবলের ওপর নির্ভর করছে।
কার্য সহকারী পদেও একই চিত্র। ৪৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদরে একজন, দীঘিনালায় তিনজন, পানছড়িতে একজন, মহালছড়িতে দুজন, মাটিরাঙ্গায় দুজন, গুইমারায় দুজন, লক্ষ্মীছড়িতে একজন, মানিকছড়িতে একজন এবং রামগড়ে দুজন দায়িত্ব পালন করছেন।
এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, সংস্থাটির অধিকাংশ উন্নয়নকাজই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সেতু-কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, কাজের মান যাচাই ও কারিগরি তদারকির জন্য পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তাকেই একাধিক প্রকল্প ও এলাকার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
এতে ঠিকাদারদের কাজেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এলজিইডির ঠিকাদার কমল বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ঠিকাদারদের লাইসেন্স নবায়নের অনলাইন কার্যক্রমেও সার্ভার জটিলতার কারণে সমস্যা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।
উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্নিমেষ দেওয়ান বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকলে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে দপ্তরের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের ওপর কাজের চাপ বাড়ছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলজিইডির সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলে উন্নয়নকাজের গতি ও মান আরও বাড়বে।
এলজিইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, খাগড়াছড়িতে সংস্থাটির আওতায় প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পিচঢালা ও ইটসলিং সড়ক প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। বর্তমানে প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বিভিন্ন সেতু নির্মাণের কাজও চলছে।
এ ছাড়া আগামী দিনে জেলার আরও প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের প্রকল্প প্রস্তাবিত রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল নিশ্চিত করা না গেলে তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পূর্বদিক/এসএ





