নোয়াখালীতে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
প্রকাশিত হয়েছে : 3 October 2026, 10:34 am

ছবি: পূর্বদিক
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে চলাচল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের চেষ্টা, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগসহ একাধিক ঘটনায় এ শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসসংলগ্ন ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক শিক্ষার্থী।
গত ২ অক্টোবর মাইজদী শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকায় নোবিপ্রবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ঘিরে মব সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। মোবাইল চুরির ঘটনায় খোঁজ নিতে গিয়ে তারা স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে বার্লিংটন মোড় এলাকার একটি বাসা থেকে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়। চোরেরা পাশাপাশি থাকা দুটি বহুতল ভবনের গ্রিল বেয়ে উঠে চতুর্থ তলার খোলা জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে মোবাইলটি নিয়ে যায় বলে জানান তিনি। পরে ওই দিন বিকেলে বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
আরমানের সহপাঠী সজিব আহমেদ বলেন, ২ অক্টোবর একই এলাকায় একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের কাছে নিজেদের চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের বিষয়ে জানতে চান।
সজিবের ভাষ্য, সালিশে মোবাইল চুরির বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযুক্তদের স্বজনেরা তাদের সহযোগিতা না করে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এ সময় তাদের ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং কয়েকজনের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই ঘটনার বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফখর উদ্দিন বলেন, মোবাইল চুরির ঘটনায় তারা আগেই সুধারাম থানায় জিডি করেছিলেন। ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দুইজনকে আটকের খবর পেয়ে তারা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তার বন্ধু সালমান হোশমী ও সজীবের গায়ে হাত তোলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে এসে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং থানায় যেতে বলে।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবির প্রক্টরিয়াল বডির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রক্টর বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাশে থাকবে। ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছিল।
তিনি বলেন, শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দারা মোবাইল চুরি হওয়া শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীদের পক্ষেই ছিলেন। তবে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় এবং স্থানীয় কয়েকজন আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে আপত্তি জানান।
সহকারী প্রক্টর আরও জানান, পরে পুলিশ আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে গত ২৯ জুন নোবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঠক্কর এলাকায় রিকশাচালকের মাধ্যমে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষার্থী রিকশা থেকে লাফ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন বলে জানা যায়।
এ ছাড়া গত ১৫ জুন সমাজকর্ম বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমনকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরও আগে ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি রাতে ক্যাম্পাস থেকে শহরে আসার পথে নোবিপ্রবির আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ওঠে।
একাধিক ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যাম্পাসের বাইরে চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে কিংবা একা চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেকে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাদের নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
পূর্বদিক/এসএ





