নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় খুলনায় ৪৯ কোটি টাকার টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি
প্রকাশিত হয়েছে : 5 October 2026, 8:06 pm

ছবি: পূর্বদিক
খুলনা প্রতিনিধি: নির্মাণসামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরকারি এস্টিমেটের পুরোনো দর দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয় বলে অভিযোগ করেছেন খুলনার ঠিকাদাররা। বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে এস্টিমেট সংশোধন না করলে এলজিইডির প্রায় ৪৯ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন খুলনা জেলা এলজিইডি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এলজিইডির ঠিকাদাররা সরাসরি সম্পৃক্ত। অথচ মাঝারি পর্যায়ের ঠিকাদারদের জন্য ব্যাংক ঋণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু সরকারি এস্টিমেটে সেই বাস্তবতার কোনো প্রতিফলন নেই।
ঠিকাদার সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক সংস্কারসহ উন্নয়নকাজে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব কাজের টেন্ডার আগামী ৭ অক্টোবর আহ্বান করা হয়েছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি এস্টিমেটে এক ব্যারেল বিটুমিনের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দেওয়ার পর ঠিকাদারের হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার টাকা। অথচ ১৫০ কেজির এক ব্যারেল বিটুমিনের বর্তমান বাজারদর প্রায় ১৯ হাজার টাকা। এতে কাজের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
তারা আরও জানান, গত বছর প্রতি টন পাথরের দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা। বর্তমানে পরিবহন খরচ বাদেই এর দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ টাকা। ইটের দাম গত বছর প্রতি হাজারে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। কয়লার দাম প্রতি টন ১৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে বালুর দাম প্রতি ঘনফুট ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা হয়েছে।
ঠিকাদার সমিতির ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সরকারি দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে তারা স্বাগত জানান। তবে বর্তমান এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করলে ঠিকাদারদের শতভাগ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি উন্নয়নকাজের এস্টিমেট রেট পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতার নিরিখে এস্টিমেট সংশোধন করা না হলে আগামী ৭ অক্টোবরের টেন্ডারে ঠিকাদাররা অংশ নেবেন না এবং টেন্ডার বর্জন করতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আজগর আলী খান, সহসভাপতি আমির হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর ফকির, কোষাধ্যক্ষ এস এম সালাউদ্দিন ও নির্বাহী সদস্য আলাউদ্দিন।
পূর্বদিক/এসএ





