সংস্কৃতি শুধু নাচ-গান নয়, জাতির চরিত্রও নির্মাণ করে: নাসের রহমান
প্রকাশিত হয়েছে : 6 October 2026, 11:48 pm

ছবি: পূর্বদিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সংস্কৃতিকে শুধু নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি কিংবা চলচ্চিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন জীবনাচরণ, অভ্যাস, পরিচ্ছন্নতা, স্বভাব ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংস্কৃতিকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম নাসের রহমান এমপি।
তিনি বলেছেন, ‘কালচার অ্যাজ কম্পাস, ক্যারেক্টার ইজ দ্য ফ্রেম অব অ্যা নেশন’—সংস্কৃতি একটি জাতির দিকনির্দেশক এবং জাতির চরিত্রের কাঠামো তৈরি করে।
রোববার (৪ নভেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসের রহমান বলেন, ‘কালচার শুধু নাচ-গান এগুলো নয়। কালচার আসে নিজের চালচলন, হ্যাবিটস, এটাও পার্ট অব কালচার। যেমন জাপানের মানুষের একধরনের কালচার আছে। তারা কোনো কিছু ময়লা বা অগোছালো পছন্দ করে না। এটাও একটা কালচার। চীনের মানুষেরও একটি নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি কবিতা আবৃত্তি, চলচ্চিত্র কিংবা মঞ্চের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডই কালচার, নো। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সংস্কৃতির পরিধি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত।’
একটি জাতির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে সংস্কৃতির ভূমিকার কথা তুলে ধরে নাসের রহমান বলেন, ‘কালচার ডিফাইন্ডস অ্যা নেশন।’ একটি জাতির বৈশিষ্ট্য তার সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। এ দেশের মানুষ কেমন, তাদের স্বভাব-চরিত্র কেমন, তারা কীভাবে চলাফেরা করে এবং অন্যের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করে, এসবও সংস্কৃতির অংশ।
তিনি বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে তেমন একটা গুরুত্ব দিই না। কারণ আমরা আমাদের দৈনন্দিন লাইফস্টাইল নিয়ে ব্যস্ত। অনেক দেশে কিন্তু সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।’
সংস্কৃতি একটি জাতির সামগ্রিক জীবনব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে কেবল মঞ্চভিত্তিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন আচরণ, সামাজিক মূল্যবোধ ও জীবনাচরণের মধ্যেও সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।
বাংলাদেশের দীর্ঘ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে নাসের রহমান বলেন, ‘আমরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশের অধীনে ছিলাম প্রায় দুইশ বছর। কিন্তু ব্রিটিশরা কালচারের প্রতি বেশ সচেষ্ট। আমরা বোধহয় তাদের মতো ততটা হয়ে উঠতে পারিনি।’
অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার জেলায় শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২৫’ প্রদান করা হয়।
এবার সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণায় অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, আবৃত্তিতে রোকসানা আক্তার, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে মো. মশিউর রহমান রিপন, চলচ্চিত্রে চৌধুরী শামসুল আরেফীন এবং যন্ত্রসংগীতে মো. রুবেল মিয়াকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান (খোকন মাহমুদ)।
এ সময় জেলার বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন, গুণী ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বদিক/এসএ





