হযরত মোহাম্মদ (সা.) প্রদর্শিত পথই নন্দিত ও স্বীকৃত ll সরওয়ার আহমদ
প্রকাশিত হয়েছে : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:০৬ অপরাহ্ণ

সরওয়ার আহমদ::
বিধাতা, তুমি যুগে যুগে দূত পাঠিয়েছো বারে বারে/ ক্ষমাহীন সংসারে/ বলে গেলো তারা, ক্ষমা করো সবে, বলে গেলো ভালোবাসো/ অন্তর হতে বিদ্বেষ বিষ নাশো/ স্মরণীয় তারা বরণীয় তারা, তবুও বাহির দ্বারে/ আজি দুর্দিনে ফিরানো তাদেরে ব্যর্থ নমস্কারে…। যুগের নিরবধি পরিক্রমণের পরও কবির উপরোক্ত আবেগ পংক্তি অক্ষয় প্রভা নিয়ে সতত বিচরণশীল বলেই প্রতীয়মান।
যদি ধরা যায়, এই মনুষ্য ভ্রহ্মান্ডকে স্রষ্টা একটি অগ্নিকুন্ডলী হিসেবে প্রতিস্থাপন করার পর এই মহাকুন্ডলীর অগ্নিথাবাকে তিরোহিত করার নিমিত্তে অযুত জলপ্রবাহেরও নিশ্চিত করেছেন, তাহলে তা অতিশয়োক্তি হিসেবে গণ্য করার অবকাশ নেই। এই মনুষ্য ভ্রহ্মান্ডে বিরাজিত হিংসা বিদ্বেষ লোভ লালসা হানাহানি এবং যুদ্ধ বিগ্রহকে প্রশমিত করে মানুষে মানুষে মানবিক বন্ধন, পাপাচার রহিতকরণ, সরল সহজ পথ অনুসরণ এবং ঐশ্বরিক আরাধনাকে নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বিধাতা যুগে যুগে, কাল থেকে কালান্তরে মানবরূপী দূত প্রেরণ করেছেন বারে বারে। তারা বিভ্রান্ত মানবগোষ্টীকে বাঁকাপথ ছেড়ে সহজ সরল পথে চলা, মানব মূল্যবোধের প্রতিষ্টা, নির্ভেজাল সমাজের গোড়াপত্তন এবং ঐশ্বরিক আরাধনার পথে আসার আহবান জানিয়েছেন। অগ্নিকুন্ডলীতে এ আহবান বারিধারার সমতুল্য হলেও সে বারিপাত অগ্রাহ্য হয়েছে বারবার। একদিকে সুশীতল ধারা এবং তার বিপরীতে অগ্নিপ্রবাহ নিয়েই আবর্তিত হচ্ছে মনুষ্য জগত।
মানব সমাজকে শান্তির প্রবাহে অবগাহনের লক্ষ্যে এবং ধর্মীয় বন্ধনে আবদ্ধ রাখার নিমিত্তে আল্লাহ তার সর্বশেষ দূত হযরত মোহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে। যেখানে আইয়্যামে জাহেলিয়াত তার স্বমহিমায় গজদন্ত বিকশিত করেছিলো মানবিক মূল্যবোধের প্রতি ভ্রূকুটি প্রদর্শন করে। হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোদাপ্রদত্ত অসীম প্রজ্ঞা, নিরলস সাধনা এবং জেহাদি প্রত্যয়ের উপর দাঁড়িয়ে দুই দশকের মধ্যেই মানবিক ধর্ম ইসলামকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। দূর হয়েছিলো জাহেলিয়াত। এ কারণেই হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্বনবী হিসেবে খ্যাত। তার প্রদর্শিত পথই আসল পথ হিসেবে নন্দিত এবং স্বীকৃত।
হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সময় ও প্রেক্ষাপটের আলোকে আল্লাহর নিকট থেকে পথনির্দেশনা হিসেবে ওহি এসেছে এবং সেই ওহি মোতাবেক তিনি ঐশ্বরিক রূপরেখা অনুসারে পথ চলেছেন। এই ওহি আল কোরআন।
বিশ্ব মুসলিম সমাজের নিকট এই মহাগ্রন্থই হচ্ছে পথচলার দিকনির্দেশক পাঞ্জেরি। ইসলামের ছায়াতলে বহুজাতি ও বহুভাষী মানুষের সম্মিলন ঘটেছে। আরবি কোরআন পাঠ এবং তার মর্ম উদ্ধার এবং ব্যাখ্যা হয়তো ভিন্নভাষী সবার জন্য সম্ভব নয়। একইভাবে প্রণীত হাদিসের মধ্যে মতভিন্নতারও কারণ থাকতে পারে। কিন্তু অনড় এবং অভঙ্গুর আলোকবর্তীকা হিসেবে থিতু আছে মদীনা সনদ এবং বিদায় হজের ভাষণ। গোটা ইসলামী দর্শনের অস্থিমজ্জা এখানে আপন মহিমা বলে কথা বলছে।
মহান মদীনা সনদ এবং বিদায় হজের বাণী যদি কার্যকর হয় তাহলে উম্মাহ হিসেবে বিভেদ, গোত্রে গোত্রে হানাহানি, রাষ্ট্রীয় সংহতি, সুশীতল সাম্যবাদ ও ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে কোন প্রশ্ন আসতে পারে না। একইভাবে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র, নারীর ন্যায্য অধিকার এবং মানবিক সমাজ ব্যবস্থার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তাতে নিহিত আছে। কিন্তু বাণী এবং মৌল আদর্শিক জায়গামতো দাঁড়িয়ে আছে? ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়িকে খোদ কোরআানে যেমনই সতর্ক করা হয়েছে তেমনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নিষেধ করেছেন।
ইসলাম একটি পুতপবিত্র এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী ধর্ম হিসেবে প্রণিধানযোগ্য এবং স্বীকৃত। এ ধর্মের অনুসারীদের বৃহৎ অংশ সংবেদনশীল। ফেরকাবাজরা তাদেরকে বিভ্রান্তকরণে সদা সক্রিয়। এ ক্ষেত্রে ঔষধির ভূমিকা রাখতে পারে বিদায় হজের মর্মবাণী এবং মদীনা সনদের মৌল ভিত্তি।





